নয়াদিল্লি, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): উৎসবের মরশুমের আগে অবৈধ মদের কারবারে বড়সড় আঘাত হানল দিল্লি পুলিশের পূর্ব জেলার অ্যান্টি-স্ন্যাচিং অ্যান্ড বার্গলারি (এএসবি) সেল। হরিয়ানা থেকে দিল্লিতে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা ১৪৭ কার্টন অবৈধ মদ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় এক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে মদ বহনের কাজে ব্যবহৃত একটি পণ্যবাহী গাড়িও।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তের নাম মোহিত (২৪)। সে উত্তরপ্রদেশের শামলি জেলার সেওয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা। তদন্তে জানা গিয়েছে, এর আগেও দিল্লি আবগারি আইনে তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা দায়ের হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, আসন্ন উৎসবের মরশুমকে সামনে রেখে অবৈধ মদ, বেআইনি অস্ত্র পাচার এবং অন্যান্য অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এসিপি (অপারেশনস) পবন কুমারের তত্ত্বাবধানে এসআই অজয় তোমরের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।
২ ও ৩ আগস্টের মধ্যবর্তী রাতে পূর্ব দিল্লির গাজিপুর শ্মশানঘাটের কাছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদবাহী একটি গাড়ি যাওয়ার গোপন খবর পায় পুলিশ। তথ্য যাচাইয়ের পর নির্দিষ্ট এলাকায় নজরদারি ও ফাঁদ পাতা হয়।
একই সময়ে দিল্লি আবগারি দফতরের একটি দলও সন্দেহভাজন গাড়িটির গতিবিধির উপর নজর রাখছিল। পরে যৌথ অভিযানে টাটা এস গাড়িটিকে আটক করে চালক মোহিতকে গ্রেফতার করা হয়।
তল্লাশিতে গাড়ি থেকে ১৪৭ কার্টন অবৈধ মদ উদ্ধার হয়, যেগুলিতে ‘ফর সেল ইন হরিয়ানা অনলি’ লেখা ছিল। উদ্ধার হওয়া মদের মধ্যে ছিল ১০৪ কার্টনে ৫,২০০ কোয়ার্টার বোতল ‘দেশি শরাব সন্ত্রা’, ১৭ কার্টনে ৮৫০ কোয়ার্টার বোতল ‘দেশি শরাব রেস-৭’ এবং ২৬ কার্টনে ৩১২ বোতল ‘দেশি শরাব মুরথল নং-১’।
এই ঘটনায় গাজিপুর থানায় দিল্লি আবগারি আইনের ৩৩ ও ৫৮ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ মদের উৎস, যাদের কাছে সরবরাহের কথা ছিল এবং এই আন্তঃরাজ্য পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদের খোঁজ শুরু করেছে।
জিজ্ঞাসাবাদে মোহিত জানিয়েছে, গত পাঁচ-ছয় বছর ধরে সে চালকের কাজ করছিল। সেই সময়েই অবৈধ মদের কারবারিদের সংস্পর্শে এসে কমিশনের বিনিময়ে হরিয়ানা থেকে দিল্লিতে মদ পরিবহনের কাজে জড়িয়ে পড়ে। ঘটনার দিনও সে হরিয়ানা থেকে মদের চালান নিয়ে গাজিপুরের দিকে যাচ্ছিল, সেই সময় পুলিশের জালে ধরা পড়ে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি আন্তঃরাজ্য অবৈধ মদ সংগ্রহ, পরিবহণ ও সরবরাহের বৃহত্তর নেটওয়ার্কেরও তদন্ত চলছে। (আইএএনএস)



















