আগরতলা, ৩ আগস্ট: শিক্ষকতায় ফেরার ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হওয়া জল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রাক্তন সাংসদ রেবতী ত্রিপুরা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেননি। বরং শিক্ষকতার পাশাপাশি দলীয় দায়িত্বও সমানভাবে পালন করবেন।
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রেবতী ত্রিপুরা বলেন, তিনি যে মহাত্মা গান্ধী মেমোরিয়াল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন, সেটি একটি সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত বিদ্যালয়। ফলে সেখানে কর্মরত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ সরকারি চাকরির বিধিনিষেধ প্রযোজ্য নয় এবং শিক্ষকতার পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার ক্ষেত্রেও কোনও বাধা নেই।
তিনি বলেন, ২০১৯ সালে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর শিক্ষকতার দায়িত্ব থেকে ছুটিতে যান। বর্তমানে নির্বাচনী বা সাংগঠনিক ব্যস্ততা তুলনামূলক কম থাকায় এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট থাকায় ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থে পুনরায় শিক্ষকতায় ফিরেছেন। ভবিষ্যতে দল যে দায়িত্ব দেবে, শিক্ষকতার পাশাপাশি সেই দায়িত্বও তিনি পালন করবেন বলে জানান।
রেবতী ত্রিপুরা আরও বলেন, তাঁকে নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বিজেপি ছাড়েননি এবং ভবিষ্যতেও দলেই থাকবেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বাবা ও দাদুও দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০১৪ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং ২০১৯ সালে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর শিক্ষকতা থেকে অব্যাহতি নেন। বর্তমানে রাজনৈতিক কর্মসূচি কম থাকায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে দাবি তাঁর।
উল্লেখ্য, রবিবার রেবতী ত্রিপুরার শিক্ষকতায় ফেরার খবর প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়। এদিকে, রেবতী ত্রিপুরা বর্তমানে বিজেপির কোর কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী দিনে ভিলেজ কমিটির নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষকতা ও রাজনৈতিক দায়িত্ব কীভাবে একসঙ্গে সামলাবেন এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।























