তিরুবনন্তপুরম, ৩ আগস্ট (আইএএনএস): টানা ভারী বৃষ্টিতে কেরলের বিভিন্ন জেলায় বন্যা, ভূমিধস, জলাবদ্ধতা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পরিস্থিতির মধ্যে সোমবার জরুরি বৈঠক ডাকলেন মুখ্যমন্ত্রী ভি.ডি. সাথীশন। ২০১৮ সালের ভয়াবহ বন্যার স্মৃতি ফের উসকে দিয়ে রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় জেলা শাসক, স্বরাষ্ট্র ও রাজস্বমন্ত্রী, বিভিন্ন জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী এবং মুখ্যসচিবকে নিয়ে অনলাইনে উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বৈঠকে জেলার সামগ্রিক পরিস্থিতি, ত্রাণশিবিরের পরিচালনা, উদ্ধারকাজ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় গৃহীত সতর্কতামূলক পদক্ষেপ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আবহাওয়ার অনিশ্চিত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা আরও জোরদারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেবেন।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) সোমবার কেরলের সবকটি ১৪ জেলায় হলুদ সতর্কতা জারি করেছে। ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি দমকা হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়ের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। আইএমডির মতে, দক্ষিণ গুজরাট উপকূল থেকে উত্তর কেরল উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত একটি উপকূলীয় ট্রাফের প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উত্তর কেরলের কিছু এলাকায় বৃষ্টি কিছুটা কমলেও ৫ আগস্ট থেকে ফের ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
প্রবল বর্ষণে পাম্বা নদীর জলস্তর ক্রমশ বাড়ছে। এর জেরে পাথানামথিট্টা জেলার রান্নি ও কোঝেনচেরি তালুকে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে মুঝিয়ার বাঁধকে ঘিরে। জলাধারের জলস্তর ১৯০ মিটারে পৌঁছে ‘রেড অ্যালার্ট’ স্তরে রয়েছে। জলস্তর পূর্ণ ধারণক্ষমতা ১৯২.৬৩ মিটারে পৌঁছালে বাঁধের গেট খুলে কাক্কাট্টার নদীতে জল ছাড়া হবে, যার ফলে নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা আরও বাড়তে পারে। কাক্কাট্টার ও পাম্বা নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং নদীতে না নামার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওয়েনাড়ে বৃষ্টি সাময়িকভাবে কমলেও মালাপ্পুরমে এখনও দফায় দফায় বৃষ্টি চলছে। থামারাসেরি ঘাট পাস ও একাধিক পর্যটনকেন্দ্রে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। কোঝিকোড় শহরেও বৃষ্টি কিছুটা কমলেও জলাবদ্ধতার সমস্যা অব্যাহত।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে এখন পর্যন্ত ৭,৬৭৪ জনকে সরিয়ে ২৭৩টি ত্রাণশিবিরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পাথানামথিট্টায় ৭৫টি, কোট্টায়ামে ৬৪টি এবং কোঝিকোড়ে ৩৬টি ত্রাণশিবির চালু রয়েছে। যদিও কয়েকটি শিবিরে পর্যাপ্ত মৌলিক পরিষেবা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ উঠেছে।
এ পর্যন্ত ৩০টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং ২৯৩টি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সরকারি হিসেবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১। একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে।
উত্তাল সমুদ্রের কারণে কেরল উপকূলে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি সব ধরনের জলভিত্তিক পর্যটন ও বিনোদনমূলক কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা আপাতত ২০১৮ সালের মতো ভয়াবহ বন্যার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা না করলেও, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মতে, ভারী বৃষ্টিতে স্যাচুরেটেড জলাধার এলাকা, নদীর ক্রমবর্ধমান জলস্তর এবং আগামী কয়েক দিনের পূর্বাভাসের কারণে আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে রাজ্য প্রশাসন।



















