ওয়াশিংটন, ২ আগস্ট (আইএএনএস): যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত রেখেছে। তাঁর দাবি, সম্ভাব্য একটি চুক্তির মৌলিক কাঠামো নিয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং সেই চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া ও ইরানের পরমাণু হুমকির অবসানের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযানের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকলেও কূটনৈতিক উদ্যোগকে সুযোগ দিতেই হামলা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি লেখেন, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেখা যায়নি এমন সামরিক শক্তি ও সক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে প্রস্তুত রয়েছে।”
ট্রাম্পের দাবি, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশ ওয়াশিংটনকে সামরিক পদক্ষেপ পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে, কারণ সম্ভাব্য একটি চুক্তির মূল কাঠামোতে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খুলে দেওয়া এবং ইরানের পরমাণু হুমকির অবসানের বিষয়টি থাকবে। তিনি বলেন, “বিশ্বের ভবিষ্যৎ এবং একটি সফল ও সমৃদ্ধ ইরানের স্বার্থে আমি হামলা বাতিল করতে রাজি হয়েছি, তবে দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার শর্তে।”
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, কূটনৈতিক পথে এগোনোর এই সিদ্ধান্তে ইসরায়েলও সম্মতি জানিয়েছে। তবে তিনি সম্ভাব্য চুক্তির সময়সূচি বা বিস্তারিত সম্পর্কে কিছু জানাননি। একইসঙ্গে ইরান বা ইসরায়েলের পক্ষ থেকেও তাঁর দাবির কোনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ মেলেনি।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান যতদিন পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীর জন্য হুমকি সৃষ্টি করার সক্ষমতা বজায় রাখবে বা পরমাণু অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা চালাবে, ততদিন যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ অব্যাহত রাখবে। যদিও তিনি স্বীকার করেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা সফল হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে তাঁর আস্থা কমে এসেছে।
ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরা ওদের ওপর খুব কঠোর আঘাত হানব। একসময় তারা বলবে, আর সহ্য করা সম্ভব নয়।”
ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরানকে কোনও অবস্থাতেই পরমাণু অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। তাঁর দাবি, ইরান যদি পরমাণু অস্ত্র পেত, তাহলে এতদিনে গোটা মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংস হয়ে যেত। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ইরান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লেও দেশটির এখনও সীমিত সামরিক সক্ষমতা রয়েছে।























