আগরতলা, ১ আগস্ট (আইএএনএস): ত্রিপুরায় সরকারি আধিকারিকের পরিচয় ভুয়োভাবে ব্যবহার করে সরকারি সংস্থার আদলে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের প্রতারণার অভিযোগে অর্থপাচার মামলায় প্রায় ১.১২ কোটি টাকার ব্যাংক আমানত অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইডির আগরতলা সাব-জোনাল অফিস ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই জারি করা প্রোভিশনাল অ্যাটাচমেন্ট অর্ডার-এর মাধ্যমে এই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে। বাজেয়াপ্ত হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে অভিযুক্ত উৎপল কুমার চৌধুরী, ত্রিপুরা ক্যাডারের বরখাস্ত (সাসপেন্ডেড) আইএএস আধিকারিক অভিষেক চন্দ্র এবং একটি বেসরকারি আবাসন সংস্থার নিয়ন্ত্রণাধীন শেল সংস্থাগুলির ব্যাংক হিসাবের অর্থ, যা অপরাধলব্ধ অর্থ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
অভিষেক চন্দ্র ত্রিপুরা সরকারের পরিকল্পনা (পরিসংখ্যান) দফতরের বিশেষ সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় উৎপল কুমার চৌধুরী এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, বিশ্বাসভঙ্গ ও সরকারি পরিচয় ভুয়োভাবে ব্যবহারসহ একাধিক এফআইআরের ভিত্তিতে অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ), ২০০২ অনুযায়ী তদন্ত শুরু করে ইডি।
তদন্তে জানা গিয়েছে, উৎপল কুমার চৌধুরী নিজেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং সেই পরিচয়ে জাল পরিচয়পত্র তৈরি করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিরেক্টরেট অফ হায়ার এডুকেশন, ত্রিপুরা’ এবং ‘এম/এস ব্রিজ অ্যান্ড রুফ কোং’-এর মতো সরকারি দফতর ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার সঙ্গে বিভ্রান্তিকর সাদৃশ্যপূর্ণ নামে একাধিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এছাড়া তিনি ‘চালতাখালি স্বামীজি সেবা সংঘ’ নামে একটি নিবন্ধিত ট্রাস্টেরও নিয়ন্ত্রণ অবৈধভাবে দখল করেন বলে অভিযোগ।
এই সংস্থাগুলির মাধ্যমে সরকারি টেন্ডার, মিড-ডে মিল সরবরাহের চুক্তি এবং রাবার ব্যবসায় লাভের প্রলোভন দেখিয়ে বহু ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, ওই অর্থ বিভিন্ন শেল সংস্থার মাধ্যমে ঘুরিয়ে পরে নগদে তুলে বণ্টন করা হতো।
ইডি আরও জানিয়েছে, অপরাধলব্ধ অর্থের একটি বড় অংশ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে স্থাবর সম্পত্তি, যানবাহন এবং অন্যান্য সম্পদ কেনার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, যা অভিযুক্ত ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে রয়েছে।
তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, বর্তমানে বরখাস্ত থাকা আইএএস আধিকারিক অভিষেক চন্দ্র উৎপল কুমার চৌধুরী ও তাঁর সহযোগীদের কাছ থেকে অপরাধলব্ধ অর্থ সরাসরি নিজের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে এবং পরোক্ষভাবে একটি বেসরকারি আবাসন সংস্থার মাধ্যমে নিজের নামে ফ্ল্যাট বুকিংয়ের অর্থ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
ইডি জানিয়েছে, এই নতুন বাজেয়াপ্তির ফলে মামলায় দুটি পৃথক প্রোভিশনাল অ্যাটাচমেন্ট অর্ডারের মাধ্যমে মোট বাজেয়াপ্ত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৬৩ কোটি টাকা। ঘটনায় তদন্ত এখনও চলছে।



















