নয়াদিল্লি, ১ অগস্ট (আইএএনএস): জম্মু ও কাশ্মীরে গত ১০ দিনের মধ্যে অনন্তনাগ ও কুলগামে পরপর দুটি জঙ্গি হামলার পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দাবি, লস্কর-ই-তইবা (LeT) ফের তাদের পুরনো কৌশলেই সাধারণ নাগরিকদের নিশানা করতে শুরু করেছে। তদন্তকারীদের মতে, এই হামলাগুলি লস্করের ছদ্ম সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)-এর মাধ্যমে চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে মূল সংগঠনের পরিচয় আড়াল করতে নতুন নতুন নামও সামনে আনা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অনন্তনাগ হামলার পর সামাজিক মাধ্যমে ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল নামে একটি সংগঠন হামলার দায় স্বীকারের দাবি করলেও, তা আসলে নজর ঘোরানোর কৌশল। গোয়েন্দাদের মতে, এর নেপথ্যেও লস্কর-ই-তইবার হাত রয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, লতিফ নামে এক লস্কর জঙ্গির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে সাম্প্রতিক হামলাগুলিতে। সে আগে লস্কর কমান্ডার জাকির গনাই-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে অনন্তনাগ, শোপিয়ান ও কুলগামে একাধিক হামলায় জড়িত ছিল। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে জাকির গনাই নিহত হলেও লতিফ পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এক গোয়েন্দা আধিকারিকের দাবি, লতিফ এই হামলাগুলির মাধ্যমে উপত্যকায় লস্করের সক্রিয় উপস্থিতির বার্তা দিতে চাইছে। বর্তমানে সে আত্মগোপনে থেকে দক্ষিণ কাশ্মীর জুড়ে কম তীব্রতার ‘হিট অ্যান্ড রান’ হামলার পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে সংগঠনটি নতুন করে নিজেদের শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি জঙ্গি নিয়োগও বাড়াতে চাইছে।
নিরাপত্তা সূত্রের দাবি, কুলগামের সাম্প্রতিক হামলায় পরিযায়ী শ্রমিকদের নিশানা করা হয়েছে। অতীতেও লস্কর অ-স্থানীয় বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে উপত্যকায় আতঙ্ক সৃষ্টি এবং তাঁদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিল। বর্তমান ঘটনাগুলিতেও সেই একই কৌশলের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে।
গোয়েন্দাদের দাবি, কুলগাম হামলার দু’দিন আগেই জঙ্গি-সমর্থিত বিভিন্ন চ্যানেলে হুমকি বার্তা ও সম্ভাব্য টার্গেট তালিকা ছড়ানো হয়েছিল। ওই তালিকায় কাশ্মীরি পণ্ডিত, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম ছিল। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, কড়া নিরাপত্তায় সুরক্ষিত সেনা শিবির বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালানো কঠিন হওয়ায় জঙ্গিরা এখন অপেক্ষাকৃত কম সুরক্ষিত এলাকায় সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে।
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, এই ধরনের হামলার জন্য লস্কর তাদের জঙ্গিদের একে-৪৭-এর বদলে পিস্তল ব্যবহারের নির্দেশ দিচ্ছে। কারণ পিস্তল সহজে লুকিয়ে বহন করা যায় এবং নজর এড়ানোও সহজ। পাশাপাশি, কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড নেই—এমন ব্যক্তিদের নিয়োগের দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে। গোয়েন্দাদের মতে, এদের একবার হামলা চালিয়েই আড়ালে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তদন্তকারীদের পক্ষে তাদের চিহ্নিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
নিরাপত্তা সূত্রের মতে, সাধারণ নাগরিকদের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীকেও লক্ষ্যবস্তু করছে লস্কর। অনন্তনাগ হামলায় অমরনাথ যাত্রার নিরাপত্তায় মোতায়েন ৩৫ বছর বয়সি হেড কনস্টেবল হুসেন নিহত হন। তিনি বুদগাম জেলার বাসিন্দা ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই কাশ্মীর পুলিশের সদস্য ও নিরাপত্তা বাহিনীতে কর্মরত স্থানীয় যুবকদের চাকরি ছেড়ে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে লস্কর। সেই হুমকি অগ্রাহ্য করে কর্মরত থাকা ব্যক্তিদের উপর হামলার ঘটনাও অতীতে ঘটেছে বলে নিরাপত্তা সংস্থার দাবি।
























