নয়াদিল্লি, ১ আগস্ট (আইএএনএস): যন্তর মন্তরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা ছাত্রদের ক্ষমা করার সিদ্ধান্তকে মানবিক নেতৃত্ব ও রাষ্ট্রনায়কোচিত দৃষ্টান্ত বলে প্রশংসা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। একইসঙ্গে দলের নেতারা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রতিবাদের ক্ষেত্রে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী যেখানে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন, সেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রতিশোধের বদলে ছাত্রদের সঠিক পথ দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর সরকারি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় যন্তর মন্তরের বিক্ষোভের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, কিছু ‘বিপথগামী’ তরুণ তাঁর এবং তাঁর প্রয়াত মায়ের বিরুদ্ধে এমন ভাষা ব্যবহার করেছে, যা কোনও সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে তিনি তাঁদের ক্ষমা করতে চান এবং সমাজকেও তাঁদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির মুখপাত্র প্রতুল শাহদেও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হৃদয় অসাধারণ বড়। যন্তর মন্তরে কিছু যুবক শুধু তাঁকেই নয়, তাঁর প্রয়াত মাকেও অশালীন ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। তবুও তিনি তাঁদের ‘আমাদের সন্তান’ বলে উল্লেখ করে ক্ষমা করেছেন এবং গালিগালাজের পথ ছেড়ে দেশগঠনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এমন আহ্বান একজন প্রকৃত রাষ্ট্রনায়কই জানাতে পারেন।”
ইন্দিরা গান্ধীর আমলের সঙ্গে তুলনা টেনে শাহদেও বলেন, “তাঁর সময়েও আন্দোলন হয়েছিল, কিন্তু তার জবাবে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। অন্যদিকে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ছাত্রদের ক্ষমা করে তাঁদের সঠিক পথ দেখিয়েছেন। এজন্য আমরা গর্বিত।”
বিজেপির আরেক মুখপাত্র শাহনওয়াজ হুসেন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী গতকাল শুধু দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, অভিভাবকের ভূমিকায় কথা বলেছেন। তাঁর প্রয়াত মাকে অপমান করা হলেও তিনি বড় মনের পরিচয় দিয়ে ছাত্রদের ক্ষমা করেছেন। এই বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি হওয়া উচিত নয়।”
বিহার বিজেপির সভাপতি সঞ্জয় সারাওগি বলেন, ছাত্র আন্দোলনের সময় গোটা দেশ অশালীন ভাষার ব্যবহার প্রত্যক্ষ করেছে। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর প্রয়াত মায়ের বিরুদ্ধে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা কোনও সভ্য সমাজে পুনরাবৃত্তিও করা যায় না। তবুও প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সঠিক পথ দেখানোর চেষ্টা করেছেন এবং ক্ষমা করেছেন।
বিজেপির প্রবীণ নেতা মুখতার আব্বাস নকভিও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়ার প্রশংসা করে বলেন, “এটি সকলের জন্য একটি শিক্ষা। একদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সংবেদনশীলতা, অন্যদিকে কিছু মানুষের সামন্ততান্ত্রিক ঔদ্ধত্য স্পষ্ট হয়েছে।”
নকভি আরও অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী দীর্ঘদিন ধরেই একটি ‘গালিগালাজ চক্র’-এর নিশানায় রয়েছেন। তাঁর দাবি, এই চক্র কখনও যুবসমাজ, কখনও কৃষক, কখনও নারী বা ছাত্রদের ব্যবহার করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছে।
























