নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩১ জুলাই: জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) ২০২০-এর আলোকে শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষার সঙ্গে বাস্তবমুখী অভিজ্ঞতাকে যুক্ত করার এক উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগে অনুষ্ঠিত সাতদিনব্যাপী “ত্রিপুরার ককবরক ভাষাভাষীদের শিল্প, সঙ্গীত, লোকগান, লোকনৃত্য ও লোককথা সংগ্রহ, প্রস্তুতি ও নথিভুক্তকরণ” বিষয়ক কর্মশালার শুক্রবার সফল সমাপ্তি ঘটে।
‘মনড্রা – এ সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’-এর উদ্যোগে, ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি)-এর ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষা দপ্তরের সহযোগিতায় এবং ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের যৌথ ব্যবস্থাপনায় কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রক-এর অধীন নর্থ ইস্টার্ন কাউন্সিল।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক দেবব্রত দাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক অসীষ গুপ্ত, টিটিএএডিসি-র ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষা দপ্তরের প্রধান আধিকারিক বিজেশ দেববর্মা, বিশিষ্ট ককবরক গবেষক ও সাহিত্যিক নন্দ কুমার দেববর্মা এবং সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. সুনীল কলই, ও বিভাগের অধ্যাপক ড. দীপক উপাধ্যায়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক দেবব্রত দাস বলেন, এবং মনড্রা সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালা জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার একটি সফল উদাহরণ। তিনি বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি কাজ করে তাঁদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নথিভুক্ত করার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের নৃ-গবেষণা, মৌখিক ইতিহাস সংরক্ষণ, সাক্ষাৎকার গ্রহণ, আলোকচিত্র, অডিও-ভিডিও রেকর্ডিং, মেটাডেটা প্রস্তুত, সম্মতিপত্র গ্রহণের নীতি এবং ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক ডকুমেন্টেশন কৌশল সম্পর্কেও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
মনড্রা-এর প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি এবং ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের প্রধান ড. সুনীল কলই বলেন, “ডকুমেন্টেশন শুধুমাত্র ঐতিহ্য লিপিবদ্ধ করার বিষয় নয়, এটি একটি জনগোষ্ঠীর পরিচয়, জ্ঞান, ইতিহাস ও স্মৃতিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আজকের নথিভুক্ত তথ্যই আগামী দিনের সাংস্কৃতিক আর্কাইভ হয়ে উঠবে।”
সাতদিনব্যাপী কর্মশালায় বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ গবেষণা নৈতিকতা, মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি, ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি, শব্দ ধারণ, মেটাডেটা ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল সংরক্ষণ বিষয়ে ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশন পরিচালনা করেন। শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক অনুশীলন, আলোচনা এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার পরিকল্পনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের আশা, এই কর্মশালার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের গবেষক, সাংবাদিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ত্রিপুরার সমৃদ্ধ আদিবাসী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। আয়োজকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সমন্বিত উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচি একদিকে যেমন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তেমনি জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর আলোকে বাস্তবমুখী শিক্ষার প্রসারেও একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারীরা ককবরক ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নথিভুক্ত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।



















