নয়াদিল্লি, ৩০ জুলাই (আইএএনএস): হট্টগোলের মধ্যেই বৃহস্পতিবার লোকসভায় কণ্ঠভোটে পাস হল ‘প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’। এই বিল আইনে পরিণত হলে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমমর্যাদায় আইনি সুরক্ষা দেওয়া হবে।
এর আগে বুধবার বিলটি রাজ্যসভায় পাস হয়েছিল। এখন রাষ্ট্রপতির সম্মতি পেলেই এটি আইনে পরিণত হবে।
লোকসভায় বিল নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হলেও, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের বিক্ষোভে বারবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে অধিবেশন।
বিলটির বিরোধিতা করে ডিএমকের সাংসদ কানিমোঝি বলেন, এই আইন মানুষের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে সমাজে বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “দেশের প্রতিষ্ঠাতারা বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে ‘বন্দে মাতরম’-এর মাত্র দুটি স্তবক গ্রহণ করেছিলেন। এই বিলের মাধ্যমে কেন্দ্র বিভাজনের রাজনীতি করছে। সংসদে এমন হট্টগোলের মধ্যে বিল পাস করা গণতান্ত্রিক প্রথার পরিপন্থী। মানুষের মতামত ও সব পক্ষের বক্তব্য শোনা উচিত।”
অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র বিলটির পক্ষে সওয়াল করে বলেন, ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে সংসদে দীর্ঘ আলোচনা আগেই হয়েছে। এই বিলের মাধ্যমে জাতীয় গানকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি কংগ্রেস ও গান্ধী পরিবারের সমালোচনা করে বলেন, স্বাধীনতার সাত দশক পরেও জাতীয় গান আইনি মর্যাদা থেকে বঞ্চিত ছিল। এই বিলের ফলে জাতীয় সঙ্গীতের মতোই জাতীয় গানকেও সমান শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন দেশের মানুষ।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই বলেন, জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস তুষ্টিকরণের রাজনীতির জন্য ‘বন্দে মাতরম’-এর সংক্ষিপ্ত সংস্করণ গ্রহণ করেছিল। তাঁর দাবি, সেই সিদ্ধান্তে সংশোধন আনা জরুরি ছিল।
তিনি আরও বলেন, “‘বন্দে মাতরম’ জাতীয় গৌরবের প্রতীক এবং এই আইন ‘এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারত’-এর ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করবে।”
আইন কার্যকর হলে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ায় বাধা দেওয়া, বিঘ্ন ঘটানো বা জাতীয় গানকে অপমান করার ঘটনা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
























