ঢাকা, ৩০ জুলাই (আইএএনএস): বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হলেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও গঠনমূলক পথে এগোবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক সমস্যার সমাধান সম্ভব।
বৃহস্পতিবার ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে পৃথক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার।
তিনি বলেন, “আমি সবকিছুই ইতিবাচকভাবে দেখছি। অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে আমাদের বৈঠক হয়েছে।”
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার সম্পূর্ণ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর। তবে ভারতের পক্ষ থেকে তাঁকে স্বাগত জানাতে সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় রয়েছি। খুব শিগগিরই এই সফর বাস্তবায়িত হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ভারত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানায়। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শপথ গ্রহণের সময়ও তাঁকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
তিস্তা ও গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এদিনের বৈঠক মূলত সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। তবে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়, এমন কোনও সমস্যা নেই।
তিনি বলেন, “দিনের শেষে বিষয়টি মানুষের কল্যাণের সঙ্গে জড়িত। দুই গণতান্ত্রিক দেশের জনগণের স্বার্থে যা উপকারী হবে, সেটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।”
ভারতীয় হাইকমিশনার জানান, তিস্তা ও গঙ্গা চুক্তি নবীকরণ নিয়ে কাজ করার জন্য দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে এবং তারা শিগগিরই বৈঠকে বসবে।
তিনি বলেন, “ওয়ার্কিং গ্রুপগুলো আলোচনা চালিয়ে যাবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের পর বিষয়গুলো আরও গঠনমূলকভাবে এগোবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, বাংলাদেশের নেতাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক অত্যন্ত আন্তরিক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু ভৌগোলিক সীমান্তে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি, ক্রীড়া এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতেও অত্যন্ত গভীর।
তিনি বলেন, “দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণের ভিত্তিতে সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি কেবল শুরু, ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আরও গভীর সহযোগিতা গড়ে উঠবে বলে আমি আশাবাদী।”



















