নয়াদিল্লি, ২৮ জুলাই (আইএএনএস): তফসিলি জাতি জাতীয় কমিশন (এনসিএসসি) কোনও সরকারি সংস্থাকে বকেয়া অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিতে বা চাকরিসংক্রান্ত বিরোধের নিষ্পত্তি করতে পারে না। সংবিধানের ৩৩৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিশনের ভূমিকা শুধুমাত্র সুপারিশমূলক ও পরামর্শদাতা—বিচারিক নয় বলে সোমবার এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি এ.জি. মাসিহের বেঞ্চ বম্বে হাইকোর্টের একটি রায় খারিজ করে দেয়। ওই রায়ে মুম্বই পোর্ট অথরিটিকে পদোন্নতি সংক্রান্ত নির্দেশ কার্যকর করা এবং এক তফসিলি জাতিভুক্ত কর্মীকে ৩০ দিনের মধ্যে বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য এনসিএসসির নির্দেশ বহাল রাখা হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সংবিধান অনুযায়ী এনসিএসসি তফসিলি জাতিভুক্ত মানুষের অধিকার ও সাংবিধানিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তদন্ত করতে, তথ্য সংগ্রহ করতে এবং সরকারকে সুপারিশ করতে পারে। তবে চাকরিসংক্রান্ত বিষয়ে কার্যকর বা বাধ্যতামূলক নির্দেশ জারি করার ক্ষমতা কমিশনের নেই।
বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে বলেছে, বম্বে হাইকোর্ট ভুলভাবে মনে করেছিল যে এনসিএসসির জারি করা নির্দেশ সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতার আওতায় পড়ে। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, ৩৩৮ অনুচ্ছেদ কমিশনকে নথি তলব, সাক্ষ্য গ্রহণ এবং তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতা দিলেও সেই তদন্তের ভিত্তিতে কার্যকর আদেশ জারির ক্ষমতা দেয় না। কমিশন কেবল তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নথিভুক্ত করে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করতে পারে।
আদালত আরও জানায়, ৩৩৮(৫)(খ) অনুচ্ছেদে ব্যবহৃত “সুরক্ষা” শব্দের অর্থ এই নয় যে কমিশন নিজের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারবে। এই ক্ষমতা সর্বোচ্চ সুপারিশমূলক, বিচারিক নয়।
মামলার সূত্রপাত হয়, যখন বম্বে হাইকোর্টের একটি পূর্ববর্তী রায়ের ভিত্তিতে কেন্দ্রের ২০০২ সালের অফিস মেমোরান্ডাম বাতিল হওয়ার পর মুম্বই পোর্ট অথরিটি সংরক্ষণের ভিত্তিতে পদোন্নতি পাওয়া এক তফসিলি জাতিভুক্ত কর্মীর জ্যেষ্ঠতার তালিকা সংশোধন করে তাঁকে পদাবনতি দেয়।
এরপর ওই কর্মী এনসিএসসির দ্বারস্থ হলে কমিশন মুম্বই পোর্ট অথরিটিকে সংরক্ষণ সংক্রান্ত নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে পদোন্নতি দিতে, নিজেদের নির্দেশ কার্যকর করতে এবং ৩০ দিনের মধ্যে বকেয়া অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেয়।
মুম্বই পোর্ট অথরিটি এই নির্দেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জানায়, সংবিধানের ৩৩৮(৫) অনুচ্ছেদে নির্ধারিত ক্ষমতার বাইরে গিয়ে এনসিএসসি কোনও বাধ্যতামূলক নির্দেশ দিতে পারে না।
সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তি মেনে জানায়, ৩৩৮(৮) অনুচ্ছেদে দেওয়া দেওয়ানি আদালতের ক্ষমতা শুধুমাত্র তদন্ত ও অনুসন্ধান পরিচালনার সুবিধার্থে সাক্ষী তলব, প্রমাণ গ্রহণ এবং নথি সংগ্রহের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ। কমিশন বিচারিক সংস্থার ভূমিকা নিতে পারে না।
রায়ে আদালত আরও উল্লেখ করেছে, এনসিএসসি এবং ৩৩৮এ ও ৩৩৮বি অনুচ্ছেদে গঠিত অন্যান্য সাংবিধানিক কমিশনগুলির উদ্দেশ্য সামাজিক ন্যায় নিশ্চিত করা হলেও তাদের ভূমিকা পরামর্শমূলক ও সুপারিশভিত্তিক। তারা আদালতের মতো বিরোধ নিষ্পত্তি বা আইনি অধিকার নির্ধারণের ক্ষমতা রাখে না।
ফলে বম্বে হাইকোর্টের রায় বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেছে, এনসিএসসির বকেয়া অর্থ পরিশোধের নির্দেশ সংবিধানের বিধানের পরিপন্থী এবং আইনের দৃষ্টিতে অকার্যকর।



















