নয়াদিল্লি, ২৯ জুলাই (আইএএনএস): লোকসভায় জনপরীক্ষা (অসাধু উপায় প্রতিরোধ) সংশোধনী বিল, ২০২৬ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার সময় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বুধবার তুমুল হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের পদক্ষেপ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলার পর সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যার জেরে অধিবেশন আধ ঘণ্টার জন্য মুলতবি করতে হয়।
বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, আন্দোলনরত ছাত্রদের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অনুমোদন দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ছাত্রদের ওপর পেলেট গান ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি আরএসএসের বিরুদ্ধে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের অভিযোগও তোলেন।
রাহুলের এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, “আপনি কী ভিত্তিতে এমন অভিযোগ করছেন? কে আপনাকে এই তথ্য দিয়েছে? আপনি লোকসভার বিরোধী দলনেতা। প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ করা যায় না।” তিনি স্পিকারের কাছে রাহুলের মন্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
রিজিজু আরও বলেন, “রাহুল গান্ধীকে অবশ্যই লোকসভার মেঝেতে ক্ষমা চাইতে হবে। এটি অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ এবং তাঁর পদ ও বিশেষাধিকারেরও লঙ্ঘন।”
সরকারি পক্ষের সাংসদরা রাহুল গান্ধীর মন্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করে তাঁর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। তবে রাহুল পাল্টা বলেন, ছাত্রদের বিরুদ্ধে এমন ধরনের পদক্ষেপের অনুমোদন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমেই হতে পারে।
এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংও রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিল নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা না করে বিরোধীরা বিষয়টিকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিরোধী দলনেতার ভাষা সংসদের মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।”
অমিত শাহের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে জিতেন্দ্র সিং বলেন, “কোনও মন্ত্রী গুলি চালানোর নির্দেশ দিতে পারেন না। এ ধরনের সিদ্ধান্ত ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা শাসক (ডিএম) বা মহকুমা শাসক (এসডিএম) নিয়ে থাকেন। প্রশাসনের এই মৌলিক বিষয়টিও রাহুল গান্ধী জানেন না বলে মনে হচ্ছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, ছাত্রদের ওপর গুলি চালানো হয়নি, কেবল কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছিল। পাশাপাশি অমিত শাহ বিদেশে ছিলেন বা তাঁর গাড়িবহর নিয়ে রাহুলের অন্যান্য মন্তব্যও তথ্যভিত্তিক নয় বলে মন্তব্য করেন জিতেন্দ্র সিং।
























