নয়াদিল্লি, ২৯ জুলাই (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতের স্বাক্ষরিত একাধিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) দেশের রপ্তানিকারকদের জন্য প্রায় ৬০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজারের দরজা খুলে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তাঁর মতে, এই কৌশল ভারতকে বিশ্বব্যাপী রপ্তানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বুধবার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি ভিডিও শেয়ার করে পীযূষ গোয়েল জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে সম্পাদিত এফটিএগুলির মূল উদ্দেশ্য হল ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি করা, উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
তিনি লেখেন, “ভারত কেন বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতির সঙ্গে একাধিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করছে, তার কারণ এটাই। এই চুক্তিগুলি ভারতীয় শিল্প ও রপ্তানিকারকদের বিশ্বের বৃহত্তম বাজারগুলিতে প্রবেশের সুযোগ করে দিচ্ছে।”
ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে ভারতের রপ্তানি ৭৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এফটিএ-র ফলে বস্ত্র, রত্ন ও গয়না, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য এবং ওষুধ শিল্পের মতো খাতগুলি কম বা শূন্য শুল্কের সুবিধা পেয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে।
এছাড়া, এই বাণিজ্য চুক্তিগুলিতে দুগ্ধ ও কৃষির মতো সংবেদনশীল খাতগুলির স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা হয়েছে এবং একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুযোগও তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পীযূষ গোয়েলের দাবি, এই এফটিএগুলির মাধ্যমে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ভারতে আসছে, যা উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভারতীয় শিল্পকে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত করতে সহায়তা করছে।
সরকারের মতে, দেশীয় রপ্তানিকারকদের জন্য বাজার সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে ভারত ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিগুলির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করছে। ভারতের লক্ষ্য, বিশ্ব বাণিজ্যে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা এবং দেশকে একটি রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরিত করা।
এদিকে, মঙ্গলবার সংসদে সরকার জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের মোট রপ্তানি ৮৬৩.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছে সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছে। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি ছিল ৪৪১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং পরিষেবা রপ্তানি ৪২১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। লোকসভায় এই তথ্য জানান কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ।



















