News Flash

  • Home
  • উত্তর-পূর্বাঞ্চল
  • অসম বন্যা: দিখৌ নদী অববাহিকার জন্য বিশেষ সমন্বিত পুনর্বাসন প্রকল্পের দাবি প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়কের
Image

অসম বন্যা: দিখৌ নদী অববাহিকার জন্য বিশেষ সমন্বিত পুনর্বাসন প্রকল্পের দাবি প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়কের

গুয়াহাটি, ২৯ জুলাই (আইএএনএস): অসমে সাম্প্রতিক বিধ্বংসী বন্যার পরিপ্রেক্ষিতে দিখৌ নদী অববাহিকার জন্য বিশেষ সমন্বিত পুনর্বাসন প্রকল্প চালুর দাবি জানিয়েছেন প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা ও নজিরার প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক দেবব্রত শইকীয়া। জেলা খনিজ তহবিল (ডিএমএফটি) এবং প্রধানমন্ত্রী খনিজ ক্ষেত্র কল্যাণ যোজনা (পিএমকেকেকেওয়াই)-এর আওতায় দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রাজ্যের মুখ্যসচিব রবি কোটার কাছে পাঠানো এক বিস্তারিত স্মারকলিপিতে দেবব্রত শইকীয়া বলেন, শিবসাগর, চরাইদেও, যোরহাট-সহ উর্ধ্ব অসমের একাধিক জেলায় ভয়াবহ বন্যার ক্ষয়ক্ষতি শুধুমাত্র অস্থায়ী ত্রাণ দিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পুনর্বাসন পরিকল্পনা।

তিনি জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় শিবসাগর জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় তিন লক্ষ মানুষ এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিশেষ করে নজিরা সহ-জেলায় বহু বাড়ি ভেঙে পড়েছে, ব্যাপক ফসলহানি হয়েছে, মৎস্যচাষ ও গবাদিপশুর ক্ষতি হয়েছে এবং বহু গ্রাম দীর্ঘদিন জলমগ্ন ছিল।

দেবব্রত শইকীয়া দিখৌ নদী অববাহিকাকে ডিএমএফটি এবং পিএমকেকেকেওয়াই-এর আওতায় একটি বিশেষ পুনর্বাসন প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানান। তাঁর মতে, খনন-প্রভাবিত এলাকার বাসিন্দাদের পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও জীবিকা পুনর্গঠনের জন্য আইনগতভাবে সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

তবে তিনি সরাসরি খননকাজকে বন্যার কারণ হিসেবে দায়ী করেননি। তাঁর বক্তব্য, এই বন্যার প্রকৃত কারণ বৈজ্ঞানিকভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। বৈধ ও অবৈধ খনন, নদীর গতিপথের পরিবর্তন এবং অন্যান্য মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ড বন্যার তীব্রতা বাড়িয়েছে কি না, তা বিশেষজ্ঞদের তদন্ত করে দেখা উচিত।

স্মারকলিপিতে তিনি খনি ও খনিজ দফতর, জলসম্পদ দফতর, অসম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এএসডিএমএ), আইআইটি গুয়াহাটি, নদী বিশেষজ্ঞ, পরিবেশবিদ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনেরও দাবি জানিয়েছেন। এই কমিটি দিখৌ নদী অববাহিকায় খননকার্যের সামগ্রিক প্রভাব মূল্যায়ন করে দীর্ঘমেয়াদি বন্যা প্রতিরোধের সুপারিশ করবে।

এছাড়া তিনি বন্যাপীড়িতদের জন্য স্থায়ী দুর্যোগ-সহনশীল আবাসন, জীবিকা পুনর্গঠনের জন্য আর্থিক সহায়তা, কৃষিজমি থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বালি ও পলি অপসারণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো পুনর্নির্মাণ, দিখৌ নদীর পরিবেশগত পুনরুদ্ধার, খননকার্যের উপর কঠোর নজরদারি এবং ডিএমএফটি তহবিলের স্বচ্ছ ব্যবহারের দাবি তুলেছেন।

একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকারের ঘোষিত বর্তমান ক্ষতিপূরণের পরিমাণ যেসব পরিবার বাড়িঘর ও জীবিকা হারিয়েছে, তাদের পুনর্বাসনের জন্য পর্যাপ্ত নয়।

Releated Posts

মণিপুরের লোকটাক হ্রদে নৌকাভ্রমণ মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের

ইম্ফল, ১২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): দু’দিনের মণিপুর সফরে এসে শনিবার উত্তর-পূর্ব ভারতের বৃহত্তম মিষ্টি জলের হ্রদ লোকটাক লেকে নৌকাভ্রমণ…

ByByNews Desk Sep 12, 2026

বন শহিদদের শ্রদ্ধা জানালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী, অরণ্যরক্ষায় ‘বন দুর্গা’র ভূমিকার প্রশংসা

গুয়াহাটি, ১১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): জাতীয় বন শহিদ দিবস উপলক্ষে কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারানো বনকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন অসমের…

ByByTaniya Chakraborty Sep 11, 2026

প্রথম ভারত সফরে গুয়াহাটিতে গোরিলাজ, ২০২৭-এর ৩১ জানুয়ারি হবে কনসার্ট: হিমন্ত

গুয়াহাটি, ১০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): কিংবদন্তি ব্রিটিশ ভার্চুয়াল ব্যান্ড গোরিলাজ প্রথমবারের মতো ভারত সফরে আসছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি, ২০২৭…

ByByNews Desk Sep 10, 2026

২০২৯ সালের মধ্যে ‘মিশন শিক্ষিত অরুণাচল’-এর লক্ষ্য পূরণের লক্ষ্যে সরকার: মুখ্যমন্ত্রী খাণ্ডু

ইটানগর, ১০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ২০২৯ সালের মধ্যে ‘মিশন শিক্ষিত অরুণাচল’-এর লক্ষ্য পূরণের লক্ষ্যে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার…

ByByNews Desk Sep 10, 2026
Scroll to Top