ওয়াশিংটন, ২৮ জুলাই (আইএএনএস): হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকার ব্যাপক প্রয়োগের মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারতে জরায়ুমুখের ক্যানসার (সার্ভিক্যাল ক্যানসার) নির্মূল করা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভারতীয়-মার্কিন প্রখ্যাত রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট তথা ২০২৬ সালের পদ্মভূষণ সম্মানপ্রাপ্ত চিকিৎসক দত্তাত্রেয়ুডু নোরি।
আইএএনএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নোরি বলেন, “এইচপিভি টিকা চালু হওয়ার ফলে এখন আমরা অনেকটাই এগিয়ে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারতে জরায়ুমুখের ক্যানসার নির্মূল করতে সক্ষম হব।”
তিনি বলেন, জরায়ুমুখের ক্যানসার এমন একটি রোগ, যা প্রতিরোধযোগ্য, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তযোগ্য এবং সঠিক চিকিৎসায় সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। তবুও এই রোগে এখনও বহু নারীর মৃত্যু চিকিৎসকদের কাছে অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
নোরির দাবি, ভারতে প্রতিদিন প্রায় ২০০ জন নারী জরায়ুমুখের ক্যানসারে মারা যান। তিনি কিশোরীদের জন্য বিনামূল্যে এইচপিভি টিকাকরণ কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই উদ্যোগ রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ভারতের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নের প্রশংসা করে তিনি বলেন, গত ১২ বছরে বিশেষ করে ক্যানসার প্রতিরোধ ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে।
তাঁর কথায়, “স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। প্রথমবারের মতো দেশে জাতীয় ক্যানসার ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা আগে ছিল না।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নোরি জানান, দেশে ক্যানসার হাসপাতাল ও আউটপেশেন্ট চিকিৎসাকেন্দ্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, রোগীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং আমদানি করা কেমোথেরাপির ওষুধের দামও কমানো হয়েছে। ক্যানসার চিকিৎসার উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসাও করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “আমি অত্যন্ত আশাবাদী যে, ভারতে ক্যানসার শনাক্তকরণ, প্রতিরোধ, স্ক্রিনিং এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে আগামী দিনে আরও বড় অগ্রগতি হবে।”
নিজের কর্মজীবনের প্রসঙ্গ টেনে নোরি জানান, প্রায় ৫০ বছর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেন এবং চিকিৎসা ও শিক্ষাজগতের প্রাথমিক স্তর থেকে উঠে এসে একটি আইভি লিগ মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠানে বিভাগের প্রধান হওয়ার সুযোগ পান। তাঁর ভাষায়, “এটা শুধু আমেরিকাতেই সম্ভব।”
উল্লেখ্য, চিকিৎসা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালে দত্তাত্রেয়ুডু নোরিকে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান পদ্মভূষণ প্রদান করা হয়েছে।
























