শিবসাগর, ২৮ জুলাই (আইএএনএস): টানা প্রবল বৃষ্টির জেরে আসামের শিবসাগর জেলার খাট পাথর এলাকার নামতিয়াল দারিকাপার-সহ একাধিক গ্রামে নেমে এসেছে ভয়াবহ হড়পা বন্যা। মুহূর্তের মধ্যে গ্রাম প্লাবিত হয়ে বহু পরিবারের ঘরবাড়ি, গবাদিপশু এবং বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা জীবিকা তছনছ হয়ে গেছে। এখন জাতীয় সড়কের ধারে অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরেই দিন কাটছে দুর্গতদের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বন্যার জল এত দ্রুত গ্রামে ঢুকে পড়ে যে ঘরের জিনিসপত্র, গবাদিপশু কিংবা মূল্যবান সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার কোনও সুযোগই পাননি তাঁরা। অনেকেই শেষ চেষ্টা হিসেবে কিছু জিনিস উঁচু জায়গায় সরিয়ে রাখলেও প্রবল স্রোতে সবই ভেসে যায়।
অনেক পরিবার প্রায় আট ঘণ্টা বুকসমান জলে আটকে ছিলেন। পরে এক স্থানীয় বাসিন্দা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে তাঁদের উদ্ধার করেন। তবে এখনও বহু বাড়ি জলের তলায় থাকায় কবে ঘরে ফিরতে পারবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
দুর্গতদের অভিযোগ, খাদ্য, পানীয় জল, পোশাক এবং ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ সদস্যদের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে, কারণ প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রও তাঁদের নাগালের বাইরে।
বন্যার বিভীষিকায় উঠে এসেছে একাধিক হৃদয়বিদারক ঘটনা। এক প্রবীণ ব্যক্তি সারারাত নিজের ধানের গোলার উপর আশ্রয় নিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। পরদিন নৌকায় করে এক গ্রামবাসী তাঁকে উদ্ধার করেন।
আইএএনএস-কে এক দুর্গত বাসিন্দা বলেন, “আমাদের পুরো বাড়ি জলের নিচে। খাবার, পানীয় জল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের তীব্র অভাব। স্থানীয় মানুষ কিছু সাহায্য করেছেন, কিন্তু আরও অনেক সহায়তা প্রয়োজন।”
আরেক বাসিন্দার কথায়, “এত দ্রুত জল বেড়েছিল যে মাত্র এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই পুরো বাড়ি ডুবে যায়। একটি জিনিসও বাঁচাতে পারিনি। আমাদের পাঁচটি গরু ও ১২টি ছাগল ছিল, যার মধ্যে ১০টি মারা গেছে। এছাড়া ১৮টি কুকুরও বন্যার জলে ভেসে গেছে।”
আরও এক বাসিন্দা জানান, “ঘর এবং বিছানাপত্র সবই জলের নিচে। বাড়ির ভিতরে এখনও কোমরসমান জল থাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে ঠিকমতো ঘুমোতে পারিনি।”
এদিকে, গত ২৭ জুলাই আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছিলেন, এবারের বন্যা সাধারণ মৌসুমি বন্যার মতো নয়। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় ৪০০ শতাংশেরও বেশি বৃষ্টিপাত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর দাবি, নদীর জল উপচে পড়ার কারণে নয়, বরং অল্প সময়ে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের জেরেই এমন সব এলাকাও প্লাবিত হয়েছে, যেগুলি সাধারণত বন্যাপ্রবণ নয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এবারের বন্যার ব্যাপ্তি ও প্রকৃতি নজিরবিহীন। বহু গ্রামের পাশাপাশি শহরাঞ্চলও হঠাৎ বৃষ্টির জেরে জলের তলায় চলে গিয়েছে, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা বিপর্যস্ত হয়েছে।



















