নিউ টাউন, ২৮ জুলাই (আইএএনএস): তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে কথিত স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলায় পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ মঙ্গলবার দাবি করেছেন, বিষয়টি নিয়ে নানা ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পরই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।
বিরোধী দলনেতা মনোনয়ন সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ সিআইডি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। অভিযোগ, বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মনোনয়নের সমর্থনে প্রায় ৭০ জন বিধায়কের স্বাক্ষরের মধ্যে ১৪টি জাল। এই মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে চলতি বছরের ১১ জুন প্রায় পাঁচ ঘণ্টা এবং ১৪ জুন দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার অভিযোগের পর। তাঁরা বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসের কাছে অভিযোগ করেন, ৬ মে-র বৈঠকে এমন কোনও প্রস্তাব গৃহীত হয়নি। তাঁদের দাবি, তাঁরা ১৯ মে প্রস্তাবের নথিতে স্বাক্ষর করেছিলেন এবং পরে নথিতে কারচুপি করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি স্বাক্ষরের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
এদিকে কলকাতা হাইকোর্ট অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা দিলেও তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “সবটাই ভুয়ো। ডায়মন্ড হারবারে যে ধরনের রাজনীতি চলত, তা ভুয়ো ভোটারের উপর নির্ভর করেই চলত। ভোট প্রক্রিয়াতেও কারচুপি হয়েছে। এক সময় সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় আট লক্ষ ভোট পেয়েছিল, এখন চতুর্থ স্থানে নেমে এসেছে। ধীরে ধীরে সব সত্য সামনে আসছে।”
তিনি আরও বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য জাল শংসাপত্র তৈরির অভিযোগে চিকিৎসকদের নাম জড়ানোর বিষয়টিও খতিয়ে দেখা উচিত। তাঁর কথায়, “কীভাবে চিকিৎসকেরা এতে জড়িয়ে পড়লেন এবং কীভাবে বিদেশগামীদের জন্য ভুয়ো শংসাপত্র তৈরি হল, তারও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। তদন্ত হলেই সত্য প্রকাশ্যে আসবে।”
এনসিপি-র এনডিএ-তে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে দিলীপ ঘোষ বলেন, “এনডিএ-তে ইতিমধ্যেই ২৪টি শরিক দল রয়েছে। আরও চারটি দল যোগ দিতে চাইলে তাতে সমস্যা কোথায়? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন। যারা উন্নয়নের এই যাত্রায় সামিল হতে চান, তাঁদের স্বাগত।”
বিহারে সাম্প্রতিক একে-৪৭ গুলিচালনার ঘটনায় তিনি বলেন, “আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। যেখানে এমন ঘটনা ঘটবে, সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।”
খেলাধুলার প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, কমনওয়েলথ গেমস, অলিম্পিক এবং এশিয়ান গেমসে ভারতের সাফল্য ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। ‘খেলো ইন্ডিয়া’ কর্মসূচি এবং ক্রীড়াবিদদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে পাঠানোর মতো উদ্যোগের ইতিবাচক ফল মিলতে শুরু করেছে। তাঁর মতে, আগামী দিনে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াক্ষেত্রে ভারতের সাফল্য আরও বাড়বে।


















