আগরতলা, ২৭ জুলাই: ত্রিপুরার ১৯টি তফসিলি জনজাতির প্রথাগত (কাস্টমারি) আইন দ্রুত কোডিফিকেশনের দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে ত্রিপুরা ট্রাইবাল কাস্টমারি ল’ কো-অর্ডিনেশন কমিটি। কমিটির অভিযোগ, ২০২২ সালে ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) সংশ্লিষ্ট বিলগুলি সর্বসম্মতিক্রমে পাস করলেও এখনও সেগুলি আইনে পরিণত হয়নি।
বিভিন্ন তফসিলি জনজাতির প্রধান সমাজপতিদের নিয়ে গঠিত কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে কোডিফিকেশন প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় জনজাতি সমাজের মধ্যে তাদের প্রথা, রীতি-নীতি, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রিপুরায় স্বীকৃত ১৯টি তফসিলি জনজাতি রয়েছে। প্রতিটি জনজাতির নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা, রীতি-নীতি ও ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ব্যবস্থা রয়েছে। কয়েকটি জনজাতির নিজস্ব লিপিও রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই জনজাতিগুলি নিজেদের প্রথাগত আইন অনুসরণ করে অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিষ্পত্তি করে আসছে, ফলে সরকারি আদালত ও থানার ওপর নির্ভরশীলতাও তুলনামূলকভাবে কম।
সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের উল্লেখ করে কমিটি জানিয়েছে, তফসিলি জনজাতিদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি তাদের ঐতিহ্যগত শাসনব্যবস্থাকে সংরক্ষণের লক্ষ্যেই টিটিএএডিসি গঠন করা হয়েছিল।
কমিটির দাবি, স্বশাসিত জেলা পরিষদ গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন জনজাতির প্রথাগত আইনকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানানো হলেও, জামাতিয়া কাস্টমারি আইন ছাড়া অন্য কোনও জনজাতির প্রথাগত আইন এখনও আইন বা বিধি হিসেবে কার্যকর করা হয়নি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর টিটিএএডিসি সর্বসম্মতিক্রমে ত্রিপুরি, রিয়াং, চাকমা, গারো, উচই, নোয়াতিয়া, মুরাসিং, কৈপেং, রূপিনী, হ্রাংখাওল, মগ, মিজো, চোরাই এবং ত্রিপুরা জনজাতির কাস্টমারি ল’ সংক্রান্ত বিল পাস করে। পরে বিলগুলি রাজ্য সরকারের জনজাতি কল্যাণ দফতরে পাঠানো হলেও এখনও চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি। কিছু বিল সংশোধনের জন্য টিটিএএডিসিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কমিটির মতে, এই বিলম্বের ফলে জনজাতি সমাজের প্রথাগত আইন, সংস্কৃতি, আদিবাসী ধর্মীয় বিশ্বাস এবং স্বতন্ত্র পরিচয় রক্ষার প্রশ্নে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কমিটির পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ইতিমধ্যে টিটিএএডিসিতে পাস হওয়া এবং রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো বিলগুলির দ্রুত কোডিফিকেশন নিশ্চিত করার আবেদন জানানো হয়েছে। তাদের আশা, এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ত্রিপুরার তফসিলি জনজাতিরা আইনি স্বীকৃতির আওতায় থেকে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী প্রথা ও রীতি-নীতি অনুসরণ করতে পারবেন।
উল্লেখ্য, ত্রিপুরা ট্রাইবাল কাস্টমারি ল’ কো-অর্ডিনেশন কমিটির প্রতিনিধিরা মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার সরকারি বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে স্মারকলিপি প্রদান করেন।






















