ইম্ফল, ২৬ জুলাই (আইএএনএস): গত ২৪ ঘণ্টায় মণিপুরের বিভিন্ন জেলায় পৃথক অভিযানে পাঁচ জঙ্গি এবং দুই মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। একইসঙ্গে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক এবং প্রায় ৫০ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যের সন্দেহভাজন ব্রাউন সুগার উদ্ধার হয়েছে বলে রবিবার জানিয়েছে পুলিশ।
এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানান, গ্রেফতার হওয়া পাঁচ জঙ্গি নিষিদ্ধ সংগঠন কাংলেইপাক কমিউনিস্ট পার্টি (কেসিপি), কাংলেই ইয়াওল কান্না লুপ (কেওয়াইকেএল) এবং ইউনাইটেড ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট (ইউএনএলএফ)-এর সদস্য। ইম্ফল পূর্ব, কাকচিং এবং থৌবল জেলায় পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। অপহরণ এবং জোর করে চাঁদা আদায়-সহ একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তারা জড়িত ছিল বলে অভিযোগ।
থৌবল জেলার থৌবল বাজার এলাকা থেকে ইউএনএলএফ-এর দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা নিষিদ্ধ সংগঠনের জন্য নতুন সদস্য নিয়োগের কাজ করছিল।
ধৃতদের পরিচয় মুতুম সেইতারাজ সিং ওরফে সামলাং (৩১) এবং থৌনাওজাম রাকেশ মেইতেই ওরফে আমুবা ওরফে পাঙ্গেইঙ্গাকপা (৩৫)। অভিযানে তাদের ব্যবহৃত একটি মারুতি সুজুকি সুইফট গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইম্ফল-জিরিবাম জাতীয় সড়ক (এনএইচ-৩৭)-এর পাশে ইম্ফল পশ্চিম জেলার পাতসোই লামখাই এলাকায় একটি হাইওয়ে অটো কেয়ার ওয়ার্কশপে অভিযান চালিয়ে ৩০টি সাবানের বাক্সে লুকিয়ে রাখা ৩৪৬ গ্রাম সন্দেহভাজন ব্রাউন সুগার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫০ লক্ষ টাকারও বেশি।
এই ঘটনায় ওয়ার্কশপের দুই সহ-মালিক শেখ সালাউদ্দিন (৪৬), ওড়িশার বাসিন্দা এবং চোংথাম অনিলকুমার সিং (৩৮), ইম্ফল পশ্চিম জেলার বাসিন্দাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এছাড়া ইম্ফল পশ্চিম ও উখরুল জেলায় পৃথক তল্লাশি অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে দুটি পরিবর্তিত .৩০৩ রাইফেল, চারটি বোল্ট-অ্যাকশন একনলা বন্দুক, চারটি ৯ এমএম পিস্তল, একটি চীনা হ্যান্ড গ্রেনেড, একটি দেশি ‘পম্পি’ বন্দুক, একটি ১২-বোর রাইফেল, বিভিন্ন ক্যালিবারের নয় রাউন্ড জীবন্ত গুলি, একটি দেশি মর্টারের গোলা, একটি আইইডি এবং ১৫টি কার্তুজ।
পুলিশ জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নিরাপত্তা বাহিনী যৌথভাবে মণিপুরজুড়ে জঙ্গিবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছে। সংবেদনশীল ও মিশ্র জনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি ও এলাকা দখল অভিযান চালানো হচ্ছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে উপত্যকা ও পাহাড়ি জেলাজুড়ে মোট ১১২টি নাকা ও চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। জঙ্গি, সমাজবিরোধী এবং সন্দেহভাজন যানবাহনের চলাচল রুখতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ইম্ফল-জিরিবাম জাতীয় সড়ক (এনএইচ-৩৭) দিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনকে সশস্ত্র নিরাপত্তা দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, মণিপুর পুলিশ সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়ো ভিডিও, বিভ্রান্তিকর বার্তা এবং অপপ্রচার সম্পর্কে সতর্ক থাকার জন্য নাগরিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



















