নয়াদিল্লি, ২৬ জুলাই (আইএএনএস): দীর্ঘ আন্তঃরাজ্য তল্লাশি অভিযান, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিহার থেকে অপহৃত দুই নাবালিকা কিশোরীকে উদ্ধার করল দিল্লি পুলিশের সেন্ট্রাল জেলার অ্যান্টি-হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিট (এএইচটিইউ)। চলতি বছরে এই ইউনিটের মাধ্যমে মোট ৪৬ জন নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে।
রবিবার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট পুলিশের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পাহাড়গঞ্জ এবং আনন্দ পর্বত থানায় দায়ের হওয়া দুটি পৃথক অপহরণ মামলায় নিখোঁজ দুই নাবালিকাকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তের সময় পুলিশ ৬৫টি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে। পাশাপাশি প্রায় ১৪০টি অনাথ আশ্রম, আশ্রয়কেন্দ্র, ধর্মীয় স্থান এবং রেড-লাইট এলাকা তল্লাশি চালানো হয়। এছাড়াও একাধিক আন্তঃরাজ্য অভিযানের পর শেষ পর্যন্ত বিহারে দুই কিশোরীর সন্ধান মেলে।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম নাবালিকা, ১৩ বছর বয়সি ‘কে.কে.’, পাহাড়গঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পাহাড়গঞ্জ থানায় এফআইআর নম্বর ৩৪৭/২০২৬ নথিভুক্ত হয়েছিল।
তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশের হাতে একটি গোপন তথ্য এবং কিশোরীর সঙ্গে যুক্ত একটি মোবাইল নম্বর আসে। প্রযুক্তিগত নজরদারিতে প্রথমে মোবাইলের অবস্থান বিহারের সহরসা জেলায় শনাক্ত হয়। তবে পুলিশ সেখানে পৌঁছানোর আগেই মোবাইলের অবস্থান বদলে সুপৌল জেলায় চলে যায়। এরপর সুপৌলের ছাতাপুর থানার পুলিশের সহযোগিতায় এএইচটিইউ-র দল কিশোরীকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
অন্যদিকে, ১৫ বছর বয়সি দ্বিতীয় নাবালিকা ‘এন.কে.’, আনন্দ পর্বত এলাকার বাসিন্দা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় আনন্দ পর্বত থানায় এফআইআর নম্বর ৬৯০/২০২৫ দায়ের করা হয়েছিল।
তদন্ত চলাকালীন পুলিশ জানতে পারে, ওই কিশোরীকে বিহারের মধুবনী জেলার বেনিপট্টি এলাকায় দেখা গিয়েছে। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকেও উদ্ধার করা হয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, অপহরণকারীরা পুলিশের নজর এড়াতে বারবার নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করছিল এবং সিম কার্ড বদলাচ্ছিল। তবুও এএইচটিইউ-র দল প্রতিটি সূত্র অনুসরণ করে শেষ পর্যন্ত দুই নাবালিকাকেই নিরাপদে উদ্ধার করে দিল্লিতে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়।
এই অভিযানে অংশ নেন অ্যান্টি-হিউম্যান ট্র্যাফিকিং ইউনিটের সাব-ইনস্পেক্টর রাজ বাহাদুর সিং, মহিলা কনস্টেবল মনীষা এবং কনস্টেবল আশিস কুমার। তাঁদের নেতৃত্ব দেন ইউনিটের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর অনিল যাদব এবং সামগ্রিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন এসিপি/ডিআইইউ সুনীল কুমার।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এই দুই নাবালিকাকে উদ্ধারের মাধ্যমে চলতি বছরে এএইচটিইউ-র উদ্ধার হওয়া নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৪৬-এ পৌঁছেছে।



















