আগরতলা, ২৫ জুলাই: রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশের প্রাক্তন মহানির্দেশক (ডিজিপি) অনুরাগ ধনখড়ের রহস্যজনক মৃত্যু, জাতীয় সড়কের বেহাল অবস্থা, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি এবং কৃষকদের সংকটসহ একাধিক জনস্বার্থের ইস্যুতে রাজ্যজুড়ে ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করল সিপিআই(এম)। আজ সিপিএমের দুই দিনব্যাপী রাজ্য কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে এই কর্মসূচির কথা জানান সিপিআই(এম) ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তিনি জানান, বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর রাজনৈতিক ও গণআন্দোলনের পথে যাবে দল।
জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, রাজ্য কমিটির বৈঠকে ত্রিপুরার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা, প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে জিতেন্দ্র চৌধুরী সম্প্রতি প্রয়াত রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ ধনখড়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অনুরাগ ধনখড় একজন অত্যন্ত সৎ, নিষ্ঠাবান ও দক্ষ সর্বভারতীয় পরিষেবার আধিকারিক ছিলেন। তাঁর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে দাবি করে বিরোধী দলনেতা বলেন, বিষয়টির সত্য উদঘাটনের জন্য হাইকোর্টের বর্তমান বিচারপতির তত্ত্বাবধানে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
তিনি অভিযোগ করেন, ডিজিপির মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে বিভিন্ন পর্যায়ে যে বক্তব্য সামনে এসেছে, তার মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপারের নেতৃত্বাধীন বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) কতটা স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
জিতেন্দ্র চৌধুরী জানান, সিপিআই(এম) এবং বামফ্রন্টের আইনসভা দল পৃথকভাবে রাজ্যপালের কাছে চিঠি দিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।
সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকারের সাড়ে আট বছরের শাসনকালে ত্রিপুরার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। তিনি বলেন, রাজ্যে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা এবং দলীয় কার্যালয়ে আক্রমণের অভিযোগও তোলেন তিনি। বিলোনিয়া, মোহনপুর, কমলপুরসহ বিভিন্ন এলাকার সাম্প্রতিক ঘটনার উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলের কর্মীরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন।
রাজ্যের জাতীয় সড়কগুলির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও সরব হয়েছে সিপিআই(এম)। জিতেন্দ্র চৌধুরী জানান, জাতীয় সড়কের দুরবস্থার প্রতিবাদে আগরতলায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়াও তেলিয়ামুড়া ও খোয়াই এলাকার রাস্তাঘাটের সমস্যাকে সামনে রেখে বিভিন্ন মহকুমায় জনসভা করা হবে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, পরিবহণ কর্মী এবং যাত্রীরা সমস্যায় পড়ছেন। অবিলম্বে রাস্তা সংস্কারের জন্য সরকারকে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।
জিতেন্দ্র চৌধুরী জানান, আগামী ১০ আগস্ট কৃষক, কৃষি শ্রমিক এবং শ্রমিক সংগঠনগুলির সঙ্গে যৌথভাবে দেশব্যাপী আন্দোলনে অংশ নেবে সিপিআই(এম)।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ত্রিপুরার প্রতিটি মহকুমায় ‘জেল ভরো’ আন্দোলন করা হবে বলেও জানান তিনি।
জিতেন্দ্র চৌধুরী জানান, আগামী ১ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অল ইন্ডিয়া কিষাণ সভার ত্রিপুরা রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের শেষ দিনে আগরতলার আস্তাবল ময়দানে একটি বৃহৎ জনসমাবেশ করা হবে। এই সমাবেশকে সফল করতে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের কাছে তিনি আহ্বান জানান।
কৃষক ও কৃষি শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলাই এই সমাবেশের লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিন তাঁর দাবি, আগামী গ্রাম কমিটি ও পুর নির্বাচনের প্রস্তুতিও দল শুরু করেছে বলে জানান বিরোধী দলনেতা। তিনি অভিযোগ করেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনার পরিবর্তনের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে জিতেন্দ্র চৌধুরী জানান, সাধারণ মানুষের সমস্যা, প্রশাসনিক ব্যর্থতা, দুর্নীতি, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি এবং পরিকাঠামোগত সমস্যাকে সামনে রেখে আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি আরও জোরদার করবে সিপিআই(এম)। তিনি বলেন, মানুষের অধিকার ও জনস্বার্থের বিষয় নিয়ে দল ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।



















