বেঙ্গালুরু, ২৫ জুলাই (আইএএনএস): বেঙ্গালুরুর দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য কৃষিজমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত কৃষকদের সমর্থন জানালেন কর্নাটক বিজেপি সভাপতি ও বিধায়ক বি.ওয়াই. বিজয়েন্দ্র। তিনি রাজ্য সরকারকে প্রকল্পটির জন্য বিকল্প স্থান বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ইস্যুটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ যে কানাকাপুরা অঞ্চলের কৃষকরা জমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা করছেন, সেটিই মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমারের নিজস্ব এলাকা। অভিযোগ, বিরোধিতা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী তাঁর নিজের এলাকায় দ্বিতীয় বিমানবন্দর স্থাপনের চেষ্টা করছেন।
এক বিবৃতিতে বিজয়েন্দ্র জানান, কানাকাপুরার কে. চুদাহল্লি, সোমানাহল্লি এবং আশপাশের গ্রামের কৃষক ও বাসিন্দারা তাঁর সঙ্গে দেখা করে উর্বর কৃষিজমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কৃষক পরিবারের জীবিকা কেড়ে নেওয়া, পরিবেশের ক্ষতি করা এবং উর্বর কৃষিজমি ধ্বংস করা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
বিজেপি নেতা স্পষ্ট করেন, “আমরা কখনও উন্নয়নের বিরোধিতা করিনি। তবে উন্নয়ন অবশ্যই জনমুখী হতে হবে এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।”
কৃষকদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারকে এই প্রকল্পে তড়িঘড়ি কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিজয়েন্দ্র বলেন, “এটি কৃষকদের ন্যায্য আন্দোলন এবং আমরা তাঁদের পাশে আছি। বর্তমান প্রস্তাব প্রত্যাহার করে বিমানবন্দরের জন্য বিকল্প স্থান বিবেচনা করা উচিত এবং কৃষকদের উদ্বেগের যথাযথ সমাধান করতে হবে।”
কানাকাপুরা অঞ্চলে জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবকে ঘিরে কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাঁদের আশঙ্কা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি, জীবিকা এবং স্থানীয় পরিবেশের উপর গুরুতর প্রভাব পড়বে।
এদিকে, উপমুখ্যমন্ত্রী জি. পরমেশ্বর দাবি করেছেন, বেঙ্গালুরুর দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি বেঙ্গালুরু ও তুমাকুরুর মাঝামাঝি তুমাকুরু জেলায় নির্মাণ করা হোক।
বি.ওয়াই. বিজয়েন্দ্রও তুমাকুরুকেই উপযুক্ত স্থান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই জেলা বেঙ্গালুরুর সঙ্গে রাজ্যের প্রায় ২০টি জেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের কেন্দ্র।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ভি. সোমান্নাও তুমাকুরু জেলার সিরা শহরের কাছে বিমানবন্দর নির্মাণের পক্ষে মত দিয়েছেন।
বর্তমানে বিমানবন্দরের চূড়ান্ত স্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ)-এর প্রযুক্তিগত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে রাজ্য সরকার।
এর আগে বিজয়েন্দ্র অভিযোগ করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমার ব্যক্তিগত রিয়েল এস্টেট স্বার্থে প্রস্তাবিত বিমানবন্দর প্রকল্পটি নিজের এলাকা কানাকাপুরায় নিয়ে যেতে চাইছেন।


















