ওয়েনাড়, ২৫ জুলাই (আইএএনএস): দেশজুড়ে পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে জবাবদিহির দাবিতে চলা বিক্ষোভের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা শনিবার বলেন, দেশের যুবসমাজের কণ্ঠস্বর কেউ কখনও স্তব্ধ করতে পারবে না।
কেরলের ওয়েনাড়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর শুনে তিনি কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর কথায়, “গত ১০-১২ বছর ধরে আমি বারবার নিজেকে প্রশ্ন করেছি, আমাদের তরুণ প্রজন্ম কবে জেগে উঠবে? দেখুন, আমাদের দেশের সঙ্গে কী করা হচ্ছে। আরএসএস গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাকে নিজেদের প্রভাবের মধ্যে নিয়ে আসছে। প্রতিটি পদ, প্রতিটি উপাচার্য নিয়োগে আমাদের পূর্বপুরুষদের আদর্শকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “যে কোনও তরুণ বা নাগরিক প্রতিবাদে মুখ খুললেই তাঁদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। তাই আজ আমি খুবই আনন্দিত যে দেশের যুবসমাজ নিজেদের কথা বলেছে। তাঁদের কণ্ঠস্বর আর কেউ কখনও স্তব্ধ করার সাহস দেখাতে পারবে না।”
এদিকে, ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে “গণতন্ত্রের জয়” বলে অভিহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি (NEET-UG) প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর দেশজুড়ে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, “আমরা পেরেছি। ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। বলা হচ্ছিল, এই সরকারের আমলে কেউ পদত্যাগ করে না। আমরা দেখিয়ে দিয়েছি, সঠিক মানুষ এগিয়ে এলে অসম্ভবও সম্ভব হয়।”
নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা ছাত্রছাত্রীদের ছবি-সহ একটি ব্যানার প্রদর্শন করে তিনি বলেন, “এই সাফল্য তাঁদের উৎসর্গ করছি, যাঁরা ধর্মেন্দ্র প্রধানের আমলে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার জেরে প্রাণ হারিয়েছেন।”
অন্যদিকে, সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ সোনম ওয়াংচুক লিখেছেন, “এটি গণতন্ত্রের জয়। সরাসরি রাস্তাঘাট থেকে উঠে আসা গণতন্ত্রের জয়। এটি শান্তি, ধৈর্য এবং অধ্যবসায়ের জয়। সিজেপি, দেশের জেন-জি প্রজন্ম এবং ভয় কাটিয়ে উঠে আন্দোলনে সামিল হওয়া সমস্ত নাগরিককে অভিনন্দন।”
তিনি আরও লেখেন, “এবার জবাবদিহির পর পালা প্রকৃত সংস্কারের।”


















