নয়াদিল্লি/ফতেহপুর, ২৫ জুলাই (আইএএনএস): সমাজবাদী পার্টি (এসপি) এবং কংগ্রেস ছাত্র-যুবদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে বলে শনিবার অভিযোগ করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে রেয়াত করা হবে না।
ফতেহপুরের মাদারীপুর কালা ময়দানে ৪৮৯ কোটিরও বেশি টাকার ১২৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যোগী বলেন, ছাত্রদের স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্র সরকার ধারাবাহিকভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) আইন, ২০২৪ আরও কঠোর করতে কেন্দ্র সংসদে সংশোধনী আনছে। তাঁর দাবি, প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির বিধান করা হবে। পাশাপাশি বেআইনিভাবে অর্জিত সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে।
বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “যারা যুব সমাজকে শোষণ করেছে, ছাত্রদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করেছে এবং একটি পুরো প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলেছে, সেই সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেস আজ কুমিরের কান্না কাঁদছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী গত তিন দিনে ছাত্রদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী ঘোষণা করেছেন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে প্রশ্নফাঁস চক্র ও পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের ন্যূনতম ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।”
জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ) সংক্রান্ত বিষয়েও সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, জাতীয় শিক্ষানীতি ভারতের যুব সমাজকে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নতুন পরিচিতি এনে দিয়েছে।
উত্তরপ্রদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে এখন মাফিয়া বা অপরাধীদের কোনও জায়গা নেই। তাঁদের সামনে মাত্র দুটি পথ— “জেল অথবা যমলোক”। তাঁর দাবি, অপরাধী ও ভূমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে এবং সরকারি জমি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।
সমাজবাদী পার্টিকে নিশানা করে যোগী বলেন, ২০১৭ সালের আগে যোগ্য প্রার্থীরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হতেন। তাঁর অভিযোগ, “এই পরীক্ষা মাফিয়ারা কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির উত্তরাধিকার। তারাই তাদের লালন-পালন করেছে এবং সুরক্ষা দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা খেলবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছাত্রদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়, তাই নির্ধারিত সময়ে নিট পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং ফলও সময়মতো প্রকাশ করা হয়েছে।”
২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে হওয়া অধিকাংশ নিয়োগ প্রক্রিয়া বিতর্কিত ছিল বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, সেই সময় যোগ্য প্রার্থীরা ন্যায়বিচার পাননি।
অন্যদিকে, গত নয় বছরে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁর সরকার ৯ লক্ষেরও বেশি সরকারি চাকরি দিয়েছে বলে দাবি করেন যোগী আদিত্যনাথ।
তিনি আরও বলেন, “নতুন ভারতে আজ দেশের যুবসমাজ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বের সামনে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরছে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সম্মান পাচ্ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। গত এক বছরে দেশে ১২ লক্ষ সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে।”
শেষে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, পরীক্ষায় অনিয়ম ও নিয়োগে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ছাত্রদের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করার চেষ্টা করলে সংশোধিত আইনের অধীনে কঠোরতম শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।


















