নয়াদিল্লি, ২৫ জুলাই (আইএএনএস): কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের প্রথম পদক জিতে ইতিহাস গড়লেন বিহারের প্যারা পাওয়ারলিফটার ঝান্ডু কুমার। গ্লাসগোতে পুরুষদের হেভিওয়েট বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের পর তাঁকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, এই সাফল্য দেশের জন্য গর্বের এবং অসংখ্য তরুণ ক্রীড়াবিদকে অনুপ্রাণিত করবে।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “পুরুষদের হেভিওয়েট প্যারা পাওয়ারলিফটিং বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতে ঝান্ডু কুমার কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ ভারতের পদকের খাতা খুলেছেন। এটি এক অসাধারণ পারফরম্যান্স।”
গ্লাসগো গেমসে এটিই ভারতের প্রথম পদক। ঝান্ডু তাঁর সেরা প্রচেষ্টায় ১৩০.৯ কেজি ওজন তুলে সামগ্রিক তালিকায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। নাইজেরিয়ার রিলুওয়ান ইদ্রিস ১৩২.৮ কেজি তুলে সোনা জেতেন। ইংল্যান্ডের ম্যাথিউ হার্ডিং ১৩১.০ কেজি তুলে রুপো পান। মাত্র ০.১ কেজির ব্যবধানে রুপোর পদক হাতছাড়া হয় ঝান্ডুর।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বার্তায় আরও বলেন, “ঝান্ডু কুমারকে আন্তরিক অভিনন্দন। তাঁর এই সাফল্য অসাধারণ শক্তি, অদম্য মানসিকতা এবং বছরের পর বছর কঠোর অনুশীলনের প্রতিফলন। সমস্ত বাধা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি যে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন, তাতে গোটা দেশ গর্বিত।”
প্রতিযোগিতায় ঝান্ডু প্রথমে গ্রুপ-বি-তে উগান্ডার ডেনিস এমবাজিরা এবং অস্ট্রেলিয়ার বেন রাইটকে পিছনে ফেলে শীর্ষস্থান অর্জন করেন। পরে সম্মিলিত ফলাফলে তাঁর ১৩০.৯ কেজির লিফট ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করে।
২৯ বছর বয়সি ঝান্ডু কুমারের জীবনের পথচলা সংগ্রামে ভরা। বিহারের নালন্দা জেলার হরনাউতে জন্ম তাঁর। জন্ম থেকেই পোলিওতে আক্রান্ত ঝান্ডু এক সাধারণ পরিবারে বড় হয়েছেন। তাঁর বাবা ছিলেন সবজি বিক্রেতা। প্রথমে তিনি এফ-৫৫ বিভাগে শটপুট ও ডিসকাস থ্রো-তে প্যারা অ্যাথলিট হিসেবে অংশ নিতেন। পরে জিমে অনুশীলনের সময় নিজের শক্তির পরিচয় পেয়ে ২০১৭ সালে প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ে যোগ দেন।
ঝান্ডু কুমারের এই পদক কমনওয়েলথ গেমসে ভারতের অভিযানকে ইতিবাচক সূচনা এনে দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামঞ্চে দেশের প্যারা ক্রীড়াবিদদের ধারাবাহিক সাফল্যের আরও একটি উজ্জ্বল নজির হয়ে রইল।


















