মুম্বই, ২৩ জুলাই (আইএএনএস): নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলা ছাত্র আন্দোলনের জেরে মহারাষ্ট্রজুড়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বেআইনি আটক, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) সদানন্দ দাতে এবং মুম্বই পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি জমা দিল মহারাষ্ট্র প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি (এমপিসিসি)।
স্মারকলিপিতে কংগ্রেসের দাবি, ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে আটক হওয়া সমস্ত ছাত্রছাত্রীকে অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। পাশাপাশি, ওই সময়ে দায়ের হওয়া সমস্ত “মনগড়া ও প্রতিহিংসামূলক” এফআইআর প্রত্যাহার, মোবাইল ফোন তল্লাশি ও বাড়িতে গিয়ে আটক করার ঘটনায় জড়িত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সাময়িক বরখাস্ত, এবং ছাত্র ও তাঁদের পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি বন্ধে কড়া নির্দেশ জারির দাবি জানানো হয়েছে।
এমপিসিসি সভাপতি হর্ষবর্ধন সাপকালের নেতৃত্বে প্রাক্তন মন্ত্রী নাসিম খান, বিধায়ক ভাই জগতাপ এবং দলের নেতা ধনঞ্জয় শিন্ডে স্মারকলিপি জমা দেন। সাপকালের অভিযোগ, জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে আসা ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সি শত শত যুবক-যুবতীর বিরুদ্ধে অযৌক্তিক পুলিশি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কংগ্রেসের দাবি, মুম্বইয়ের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশন, রাস্তা এবং এমনকি বাড়ি থেকেও ৫০০ থেকে ৭০০ জন ছাত্রকে আটক করা হয়েছে, যাঁদের অনেকেই প্রতিবাদস্থলে পৌঁছানোর আগেই পুলিশের হেফাজতে চলে যান।
সাপকালের বক্তব্য, ২২ জুলাই মুম্বইয়ে ১৪৪ ধারা বা কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল না। তা সত্ত্বেও শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে শিবাজি পার্ক, ধারাভি, চেম্বুর-সহ একাধিক থানায় ছাত্রদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, আদালতের অনুমতি বা আইনি ভিত্তি ছাড়াই ছাত্রদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন তল্লাশি করা হয়েছে এবং তাঁদের “লাইভ লোকেশন” শেয়ার করতে বাধ্য করা হয়েছে, যা সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন।
কংগ্রেসের দাবি, এখনও ধারাভি, মাহিম, জুহু, চেম্বুর ও দাদার-সহ বিভিন্ন থানায় ২০০ থেকে ৩০০ জন ছাত্র আটক রয়েছেন।
হর্ষবর্ধন সাপকালের অভিযোগ, “মহারাষ্ট্রে আইনের শাসন রয়েছে। পুলিশের এই ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে কংগ্রেস ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে।”
তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার। ছাত্রদের অপরাধীর মতো আচরণ করলে তাঁদের শিক্ষা, চাকরি এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষা বা কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কারণ, অভিযুক্তদের মধ্যে নাবালক ও তরুণীরাও রয়েছেন।
সাপকালের অভিযোগ, “পুলিশের মূলমন্ত্র ‘সদ্রক্ষণায় খলনিগ্রহণায়’-এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী আচরণ করা হয়েছে। লাঠিচার্জ ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ছাত্রদের সাংবিধানিক অধিকার দমন করার চেষ্টা চলছে, যা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। মহারাষ্ট্রে এই ‘পুলিশ রাজ’ কংগ্রেস মেনে নেবে না।”
এছাড়া, একটি ভাইরাল ভিডিওর উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এক পুলিশ আধিকারিক ছাত্রদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়েছেন। ওই আধিকারিককে অবিলম্বে বরখাস্ত, গ্রেফতার এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
তবে কংগ্রেসের দাবি, ডিজিপি ও মুম্বই পুলিশ কমিশনার প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেছেন যে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে এবং তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, রাজ্যের সমস্ত জেলা পুলিশ সুপারদেরও প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করা হবে।



















