পাটনা, ২৩ জুলাই (আইএএনএস): নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বিহার বিধানসভার উভয় কক্ষেই তুমুল বিক্ষোভ ও বাদানুবাদের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি ঘিরে বিরোধীরা এনডিএ সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানায়, অন্যদিকে শাসক জোট সংসদীয় নিয়মের পক্ষে সওয়াল করে। ফলে বর্ষাকালীন অধিবেশনের কার্যক্রম বারবার ব্যাহত হয়।
বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন আরজেডি-র এক সদস্য বিধান পরিষদে মুলতবি প্রস্তাব এনে ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে অবিলম্বে আলোচনার দাবি জানান। এই দাবিকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং কক্ষে হইচই পড়ে যায়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে আরজেডি বিধান পরিষদ সদস্য আব্দুল বারি সিদ্দিকী বলেন, ১৯৭৪ সালের ছাত্র আন্দোলন কোনও একক রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে গড়ে ওঠেনি, বরং তা ছিল সর্বস্তরের মানুষের আন্দোলন। তাঁর দাবি, বর্তমানে দেশজুড়েও একই ধরনের ছাত্র অসন্তোষের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
তাঁর এই মন্তব্যে শাসক জোটের সদস্যরা আপত্তি জানান। পরে আরজেডি-র আরেক সদস্য সুনীল সিং আলোচনায় অংশ নিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
সিদ্দিকীর অভিযোগ, ভিন্নমত দমন করার চেষ্টা কর্তৃত্ববাদী মানসিকতার পরিচয় বহন করে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিরোধীদের মত প্রকাশের অধিকার থাকা উচিত এবং মুলতবি প্রস্তাবের মাধ্যমে আলোচনা চাওয়া বিরোধীদের বৈধ সংসদীয় অধিকার।
তিনি আরও দাবি করেন, ছাত্রদের বিরুদ্ধে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার, গ্রেপ্তার ও পুলিশি পদক্ষেপ ভবিষ্যতের জন্য একটি অশুভ দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। তাই সরকারকে সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধীদের দাবির জবাবে উপমুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী বলেন, বিধানসভার কার্যক্রম নির্দিষ্ট সংসদীয় নিয়ম ও পদ্ধতি মেনেই পরিচালিত হয়। কোনও মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে অধ্যক্ষের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে এবং তা বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ীই নির্ধারিত হয়।
তিনি আরও বলেন, সংসদীয় বিধি মেনে যে কোনও বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে শাসক জোটের আপত্তি নেই। তবে মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ বা খারিজ করার সিদ্ধান্ত একমাত্র সভাপতিরই অধিকার।
ছাত্রদের উপর পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনাটি বিহার বিধানসভার চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে।



















