নয়াদিল্লি, ২৩ জুলাই (আইএএনএস): পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কোনওরকম আপস করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বৃহস্পতিবার দলটির নেতৃত্ব জানায়, কেন্দ্র যদি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করতে চায়, তবে সেই বৈঠক যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থলেই করতে হবে।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, “আমাদের আন্দোলন যেমন চলছে, তেমনই চলবে। ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করব না। তবে আমরা চাই সোনম স্যার (ওয়াংচুক) তাঁর অনশন শেষ করুন। আমরা চাই না তিনি নিজের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলুন। দেশের জন্য তাঁর জীবন অত্যন্ত মূল্যবান।”
বর্তমানে গুরগাঁওয়ের মেদান্তা হাসপাতালে ভর্তি সোনম ওয়াংচুক বৃহস্পতিবার তাঁর অনশনের ২৬তম দিনে পৌঁছেছেন। একদিন আগে তিনি জানিয়েছিলেন, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—কেন্দ্র এমন আশ্বাস দিলে তিনি অনশন প্রত্যাহার করতে পারেন।
সরকারের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে দিপকে অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় সিজেপি প্রতিনিধিদলকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয়, অথচ আলোচনা চলে মাত্র ১০ মিনিট।
তাঁর কথায়, “আমাদের পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করানো হয়েছিল, কিন্তু কথা হয়েছে মাত্র ১০ মিনিট। এটা সম্পূর্ণ সময়ের অপচয়। একদিকে আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছে, অন্যদিকে ছাত্রদের উপর নির্মম লাঠিচার্জ হয়েছে। সরকার যদি কিছু বলতে চায়, তাহলে পরবর্তী বৈঠক যন্তর মন্তরেই করতে হবে।”
নাড্ডার আন্দোলনকে ‘রাজনৈতিক রং দেওয়া হচ্ছে’ মন্তব্যের জবাবে দিপকে বলেন, “উনি যদি রাজনীতি এতই অপছন্দ করেন, তাহলে রাজনীতি থেকে অবসর নিন। রাজনীতি তো তাঁরাই করেন, ভোট চান, জনসভা করেন। আমরা ছাত্রদের ন্যায়বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছি।”
সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা দাবি করেন, যন্তর মন্তরে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়েছেন এবং সারা দেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভ করছেন। তাঁর কথায়, “এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হল, এটি একটি প্রজন্মকে নিজেদের অধিকারের জন্য দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করেছে। মানুষ আর চুপ করে নেই, তারা এখন ক্ষমতাসীনদের কাছে জবাব চাইছে।”
সোমবার জে.পি. নাড্ডার সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে রাঙ্কা বলেন, “দু’দিন আগে আলোচনায় গিয়েছিলাম, কিন্তু সেটা ছিল সময়ের অপচয়। যদি উনি আলোচনা করতে চান, তাহলে নিজেই যন্তর মন্তরে আসুন। আমাদের দাবি খুব স্পষ্ট—ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চাই। এই দাবিতে কোনও আলোচনা বা আপস হবে না।”
প্রশ্নফাঁসের জন্য বর্তমান ব্যবস্থাকেই দায়ী করে রাঙ্কা আরও বলেন, “উপরে থেকে নিচ পর্যন্ত অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছেন, যার শীর্ষে রয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। যতদিন না জবাবদিহি নিশ্চিত হচ্ছে, দোষীদের মধ্যে ভয় তৈরি হচ্ছে এবং প্রশ্নফাঁস রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, ততদিন এই সমস্যা বন্ধ হবে না। ধর্মেন্দ্র প্রধান একজন অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি।”



















