ঢাকা, ২২ জুলাই (আইএএনএস): বাংলাদেশে হাম (মিজলস) সংক্রমণ উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। টিকাকরণের ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বুধবার জানানো হয়েছে, বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন প্রায় চার শিশুর মৃত্যু হচ্ছে এবং ৮০০-রও বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
সরকার জরুরি হাম টিকাকরণ কর্মসূচির লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার দাবি করলেও, হাসপাতালগুলিতে এখনও বিপুল সংখ্যক টিকাবিহীন শিশুর ভিড় দেখা যাচ্ছে। এতে টিকাকরণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাই স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের প্রথম তিন সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ১,০০৫টি সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হামের সংক্রমণ, ৮২১টি হাসপাতালে ভর্তি এবং প্রায় চারটি মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
বাংলাদেশের হাম ও রুবেলা নির্মূল জাতীয় যাচাই কমিটির চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান বলেন, টিকাকরণ অভিযান শুরুর দুই মাস পরও পরিস্থিতির যে উন্নতি হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। তাঁর মতে, কর্তৃপক্ষ এখনও পরিস্থিতির প্রকৃত গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেনি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রায় ৪০ লক্ষ শিশুর টিকাকরণের বাইরে থেকে যাওয়া, নির্ধারিত বয়সসীমার বাইরের শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে দুর্বল ব্যবস্থা—এই তিনটি কারণেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
মঙ্গলবার আরও চার শিশুর মৃত্যুর পর চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৯৭-এ পৌঁছেছে বলে ডিজিএইচএস জানিয়েছে।
দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড-১৯ হাসপাতাল এবং সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি সাতজন হাম রোগীর মধ্যে ছয়জনই হামের টিকা নেয়নি।
ডিএনসিসি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আসিফ হায়দার জানান, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি হাম রোগীদের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই টিকাবিহীন। তিনি বলেন, রবিবার শেষ হওয়া ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ৭৪ জন রোগীর মধ্যে মাত্র পাঁচজন টিকা নিয়েছিলেন।
মাহমুদুর রহমান জানান, হাম-রুবেলা টিকাকরণ কর্মসূচি এবং ভিটামিন ‘এ’ কর্মসূচির মধ্যে প্রায় ৪০ লক্ষ শিশুর ব্যবধান থেকেই বোঝা যায়, বিপুল সংখ্যক শিশু এখনও টিকার আওতার বাইরে রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও ডিজিএইচএস-এর প্রাক্তন রোগ নিয়ন্ত্রণ পরিচালক ডা. বে-নজির আহমেদ এই ৪০ লক্ষের ব্যবধানকে ‘অবাক করার মতো’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, টিকাকরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণেই বড় ধরনের ত্রুটি ছিল।
তিনি আরও বলেন, দুর্বল পরিকল্পনা এবং জনসচেতনতার অভাবে অনেক পরিবার সংশোধিত টিকাকরণ সূচির বিষয়ে জানতে পারেনি, যার ফলে হাম প্রতিরোধ কর্মসূচি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি।



















