ম্যানিলা, ২২ জুলাই (আইএএনএস): ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ভারত ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির মধ্যে আরও গভীর সহযোগিতার ওপর জোর দিলেন বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। বুধবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান-ভারত ২০২৬ পোস্ট-মিনিস্টেরিয়াল সম্মেলনে উদ্বোধনী ভাষণে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বের জটিল চ্যালেঞ্জ কোনও একক দেশ বা আঞ্চলিক জোটের পক্ষে একা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
সম্মেলনে জয়শঙ্কর ফিলিপাইনকে উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভারত-আসিয়ান সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে দেশটির সমন্বয়কারী হিসেবে ভূমিকার প্রশংসা করেন।
সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের ভবিষ্যৎ একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া”— এই ভাবনাই বর্তমান সময়ের বাস্তবতাকে তুলে ধরে। তাঁর কথায়, বিশ্ব এখন প্রবল অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে যে কোনও একক দেশ বা গোষ্ঠীর পক্ষে একা এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
তিনি সদস্য দেশগুলিকে দ্রুত পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়িয়ে যৌথ স্বার্থ রক্ষার আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গ তুলে ধরে জয়শঙ্কর বলেন, বর্তমান অস্থিরতার যুগে সবচেয়ে বড় চাপ পড়েছে সরবরাহ শৃঙ্খলের (সাপ্লাই চেইন) ওপর। জ্বালানি, খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তাকে আর নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যায় না। পাশাপাশি সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর বিশ্ব অর্থনীতির নির্ভরশীলতার কারণে সমুদ্রপথের নিরাপত্তাও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার গুরুত্বও তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
বিদেশমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালকে ‘আসিয়ান-ভারত সামুদ্রিক সহযোগিতা বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর মতে, এটি একটি স্থিতিশীল ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে উভয় পক্ষের যৌথ উদ্যোগের গুরুত্বের সময়োপযোগী স্মারক।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত ও আসিয়ান উভয়ই ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী এবং উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি নতুন সুযোগগুলির দিকেও সমানভাবে নজর দেওয়া উচিত।
জয়শঙ্করের মতে, ভারত-আসিয়ান সহযোগিতার পরিধি বর্তমানে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সংযোগ, বিমান যোগাযোগ, সবুজ উন্নয়ন, টেকসই অগ্রগতি এবং সংযোগ অবকাঠামো পর্যন্ত বিস্তৃত। এই ক্ষেত্রগুলিতে আরও গভীর সহযোগিতার মাধ্যমেই ঝুঁকি কমিয়ে অংশীদারিত্বকে বৈচিত্র্যময় করা সম্ভব।
ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ভারতের কাছে ‘আসিয়ান সেন্ট্রালিটি’ একটি মৌলিক নীতি। আসিয়ানের ইন্দো-প্যাসিফিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক ওশানস ইনিশিয়েটিভ একে অপরের পরিপূরক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য, বিশ্ব যখন দ্রুত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন প্রায় ২০০ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী ভারত ও আসিয়ানের উচিত একসঙ্গে পথচলা, যাতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিরাপদ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ থাকে।



















