ওয়াশিংটন, ২২ জুলাই (আইএএনএস): দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ তিমোর-লেস্তে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তেল শোধনাগার, পাইপলাইন অবকাঠামো এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ভারতীয় বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জোসে লুইস গুতেরেস একান্ত সাক্ষাৎকারে আইএএনএস-কে জানান, ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও গভীর করতে চায় তিমোর-লেস্তে।
গুতেরেস বলেন, জ্বালানি ক্ষেত্র ভারতীয় সংস্থাগুলির জন্য অন্যতম বড় সম্ভাবনার ক্ষেত্র। তিমোর-লেস্তেতে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উল্লেখযোগ্য মজুত রয়েছে এবং দেশটির এলএনজি প্ল্যান্ট, তেল শোধনাগার ও গ্রেটার সানরাইজ গ্যাসক্ষেত্রের সঙ্গে সংযুক্ত পাইপলাইন নির্মাণে বিদেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন।
তিনি জানান, গ্রেটার সানরাইজ গ্যাসক্ষেত্রে আনুমানিক পাঁচ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত রয়েছে, যা প্রায় ৩০ বছর ধরে উৎপাদন অব্যাহত রাখার সক্ষমতা রাখে।
ভারতীয় সংস্থাগুলির সম্ভাব্য বিনিয়োগ সম্পর্কে প্রশ্নের উত্তরে গুতেরেস বলেন, “সব ক্ষেত্রেই সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি খাতে আমরা যুক্তরাষ্ট্র, ভারত এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বকে উৎসাহিত করছি। আমরা ব্যবসার জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, নয়াদিল্লিতে তিমোর-লেস্তের দূতাবাস এবং রাজধানী দিলিতে ভারতের কূটনৈতিক মিশন চালু হওয়ায় দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সহজ হবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তিমোর-লেস্তে সফরেরও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূতের মতে, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর তিমোর-লেস্তে সফরের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নতুন গতি পেয়েছে। তিনি বলেন, ওই সফর ছিল “পরিবারের সদস্যের সফরের মতো” এবং রাষ্ট্রপতিকে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও সম্মানের সঙ্গে স্বাগত জানানো হয়েছিল।
গুতেরেস আরও বলেন, তিমোর-লেস্তে ভারতকে বাইরের কোনও শক্তি হিসেবে নয়, বরং এই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে দেখে। তাঁর কথায়, “আপনারা এই অঞ্চলেরই অংশ, কোনও বিদেশি নন।”
তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বেরও প্রশংসা করে বলেন, ভারত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাঁর মতে, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির যৌথ উদ্যোগে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় স্থিতিশীল পরিবেশ আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। পাশাপাশি দেশগুলির মধ্যে বিরোধ আলোচনার মাধ্যমেই মেটানো উচিত বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।
শিক্ষাক্ষেত্রকেও সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে গুতেরেস জানান, তিমোর-লেস্তের একটি ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এক ভারতীয় বিনিয়োগকারী চিকিৎসা শিক্ষা উন্নয়নে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। এছাড়া দিলিতে ভারতীয় শিক্ষার্থীরাও চিকিৎসাবিদ্যা অধ্যয়ন করছেন।
কফিকেও সম্ভাবনাময় সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, তিমোর-লেস্তের প্রধান রপ্তানি পণ্য হল জৈব কফি, যা ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও জার্মানিতে রপ্তানি হয়। ভারতের সফরকালে প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তা তিমোর-লেস্তের কফিরও প্রচার করেছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে ভারত ও তিমোর-লেস্তের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু প্রথম ভারতীয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিমোর-লেস্তে সফর করেন। সেই সফরে ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, কৃষি ও দক্ষতা উন্নয়নসহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। পরে তিমোর-লেস্তে নয়াদিল্লিতে দূতাবাস খোলার পরিকল্পনাও ঘোষণা করে।
২০১১ সালে আবেদন করার পর এবং ২০২২ সালে পর্যবেক্ষক মর্যাদা পাওয়ার পর তিমোর-লেস্তে ২০২৫ সালের অক্টোবরে আসিয়ানের ১১তম সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয়।



















