গুয়াহাটি, ২১ জুলাই (আইএএনএস): রাজ্যের উৎপাদন শিল্পে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের (এমএসএমই) প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে মঙ্গলবার গুয়াহাটিতে ডিজিটাল ডিজাইন অ্যান্ড ৩ডি প্রিন্টিং সেন্টার অফ এক্সেলেন্স-এর উদ্বোধন করলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
উদ্বোধনের পর সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই কেন্দ্রের মাধ্যমে অসমে অত্যাধুনিক ডিজিটাল ডিজাইন, অ্যাডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং এবং র্যাপিড প্রোটোটাইপিং প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে যাবে। ফলে শিল্প প্রতিষ্ঠান, উদ্যোক্তা এবং স্টার্টআপগুলি আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পাবে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, স্বাস্থ্য, মহাকাশ, জ্বালানি, কৃষি-সহ একাধিক উদীয়মান ক্ষেত্রে দ্রুত পণ্য নকশা, পরীক্ষা এবং উন্নয়নের মাধ্যমে এই কেন্দ্র উদ্ভাবনকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
তাঁর মতে, নতুন এই কেন্দ্র অসমের এমএসএমই খাতে নতুন পণ্য উন্নয়নের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি শিল্পগুলির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাও বৃদ্ধি করবে। স্থানীয় উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপগুলি রাজ্যের মধ্যেই নতুন পণ্য তৈরি করতে পারবে, ফলে বিদেশি প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভরতা কমবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই কেন্দ্র নতুন পণ্য উন্নয়নের গতি বাড়াবে এবং আমাদের এমএসএমই-গুলিকে অসমেই উদ্ভাবনী সমাধান তৈরিতে উৎসাহিত করবে। একইসঙ্গে এটি আমদানি নির্ভরতা কমানোর একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।”
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উৎপাদন ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে অসমকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার দীর্ঘদিন ধরেই প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এই সেন্টার অফ এক্সেলেন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই কেন্দ্রের মাধ্যমে উন্নত ডিজাইন সফটওয়্যার, অ্যাডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং প্রযুক্তি এবং র্যাপিড প্রোটোটাইপিং সুবিধা পাবেন গবেষক, শিক্ষার্থী, স্টার্টআপ এবং শিল্পোদ্যোগীরা। এর ফলে নতুন ধারণাকে কম সময়ে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য পণ্যে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।
রাজ্য সরকারের মতে, এই উদ্যোগ উদ্ভাবনভিত্তিক উদ্যোগকে উৎসাহিত করবে, এমএসএমই খাতকে আরও শক্তিশালী করবে এবং উচ্চমূল্যের উৎপাদন শিল্পের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলবে।
এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিকের দাবি, এই কেন্দ্র গবেষণা ও শিল্পের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করবে, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াবে এবং দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে অসমের অবদান আরও জোরদার করবে।
– আইএএনএস



















