গুয়াহাটি, ২১ জুলাই (আইএএনএস): অসমের বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাতা ড. ববি শর্মা বড়ুয়ার পরিচালিত অসমীয়া পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘রদর পক্ষী’ রাশিয়ার মস্কোয় অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল মেড বাই উইমেন-এ জুরি স্পেশাল মেনশন – সুপার মামা অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে।
৮ থেকে ১২ জুলাই মস্কোয় অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে ছবিটি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত হয়েছিল।
লেখিকা শর্মিষ্ঠা প্রীতমের বাস্তব জীবনের কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত ‘রদৰ পক্ষী’-র কেন্দ্রীয় চরিত্র জ্যোতি, অসমের এক তরুণী, যিনি অল্প বয়সেই স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফিতে আক্রান্ত হন। শারীরিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্বাধীনভাবে বাঁচার ইচ্ছা এবং লেখক হওয়ার স্বপ্নকে ঘিরেই এগিয়েছে ছবির গল্প।
এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে পরিচালক ড. ববি শর্মা বড়ুয়া বলেন, এই সম্মান গোটা টিমের জন্য গর্বের। তাঁর কথায়, “আমাদের ছবি ‘জুরি স্পেশাল মেনশন – সুপার মামা অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়ায় এই যাত্রা আরও অর্থবহ হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই স্বীকৃতি পাওয়া আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত সম্মানের।”
তিনি এই পুরস্কার ছবির সমস্ত শিল্পী ও কলাকুশলীদের উৎসর্গ করে বলেন, তাঁদের নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমই এই ছবিকে সফল করেছে। পাশাপাশি বন্ধু, শুভানুধ্যায়ী এবং সকল সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
পরিচালকের মতে, এই সম্মান ভবিষ্যতেও এমন অর্থবহ গল্প বলার অনুপ্রেরণা জোগাবে, যা ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক সীমানা পেরিয়ে মানুষের হৃদয় স্পর্শ করতে সক্ষম।
মস্কোয় সম্মান পাওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র মহলে নিজের জায়গা তৈরি করেছিল ‘রদৰ পক্ষী’। ছবিটি এনএফডিসি ফিল্ম বাজারের কো-প্রোডাকশন মার্কেটের জন্য নির্বাচিত হয় এবং ২০২৪ সালে গোয়ায় অনুষ্ঠিত ৫৫তম আন্তর্জাতিক ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসব (আইএফএফআই)-এর ‘ইন্ডিয়ান প্যানোরামা’ বিভাগে প্রিমিয়ার হয়।
পরবর্তীতে ছবিটি মুম্বইয়ের থার্ড আই এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল, পুনে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব, বেঙ্গালুরু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ভারতীয় প্রতিযোগিতা বিভাগ, ইন্ডিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল অব মেলবোর্ন, ত্রিশূর আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব এবং কানাডার মোজাইক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও প্রদর্শিত হয়েছে।
বসন্ত কুমার বড়ুয়া, ড. ববি শর্মা বড়ুয়া এবং সুলক্ষণা বড়ুয়া প্রযোজিত এই ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুলক্ষণা বড়ুয়া, কমল লোচন, অরুণ নাথ এবং বীণা পাটঙ্গিয়া। এই নতুন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি শুধু ‘রদৰ পক্ষী’-র বিশ্বজুড়ে যাত্রাকেই আরও সমৃদ্ধ করেনি, বরং অসমীয়া সিনেমা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের গল্প বলার ঐতিহ্যকেও আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও মর্যাদা এনে দিয়েছে।
























