গ্যাংটক, ২১ জুলাই (আইএএনএস): সিকিমের নামচি জেলার এনএইচপিসি-র তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সামারডুং টানেলে ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭-এ পৌঁছেছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতদের দেহ সিংতাম জেলা হাসপাতাল, গ্যাংটকের এসটিএনএম হাসপাতাল এবং নামচি জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে টানেলের ভিতরে এখনও আটকে পড়ে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে জোরকদমে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।
প্রশাসনের দাবি, সিকিম পুলিশ, দমকল ও জরুরি পরিষেবা, জেলা প্রশাসন-সহ একাধিক সংস্থা সমন্বয় রেখে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সোমবার নির্মীয়মাণ টানেলের ভিতরে ভূমিধসের জেরে সন্দেহভাজন গ্যাস লিকের ঘটনা ঘটে। ধসে টানেলের একাংশ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এর আগে সোমবার বিশাল যৌথ উদ্ধার অভিযানে টানেলে আটকে পড়া ১৬ জন শ্রমিককে নিরাপদে বের করে আনা হয়। রংপোর কাছে মামরিং এলাকার টানেল থেকে তাঁদের উদ্ধার করে রংপো প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে (পিএইচসি) স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
তবে মঙ্গলবার প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি তথ্যে এই ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃতরা উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের মধ্যে ছিলেন নাকি উদ্ধারকারী দলের সদস্য, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি প্রশাসন।
উদ্ধার অভিযানের সময় বিষাক্ত গ্যাসের আশঙ্কা এবং টানেলের অস্থির পরিস্থিতির কারণে উদ্ধারকারীদেরও চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়েছে। সোমবার প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা উদ্ধারকারী দলের কয়েকজন সদস্য টানেলের ভিতরে প্রবেশের সময় সন্দেহভাজন বিষাক্ত গ্যাসের সংস্পর্শে এসে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের দ্রুত বাইরে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
উল্লেখ্য, সামারডুং টানেলটি এনএইচপিসি-র তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর এবং এলাকা সম্পূর্ণ নিরাপদ ঘোষণা করা হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে। ততদিন নির্মাণকাজ স্থগিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
























