নয়াদিল্লি, ২০ জুলাই (আইএএনএস): লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ভাঙনের পর সংসদে দলের অবস্থানেও বড় পরিবর্তন দেখা গেল। চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সংসদের নিয়ম অনুযায়ী তাঁর প্রাক্তন সহকর্মী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিছনের সারিতে আসন বরাদ্দ করা হয়েছে।
একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষ সাংসদ ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে দল ভাঙনের পর তিনি ও আরও ১৯ জন সাংসদ ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-তে যোগ দেন। বর্তমানে লোকসভায় এনসিপিআইয়ের সাংসদ সংখ্যা ২০, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৮-এ। লোকসভার স্পিকার সংবিধানের দশম তফসিল এবং সংসদীয় রীতিনীতি অনুসারে এই পৃথক গোষ্ঠীকে স্বীকৃতি দিয়ে আলাদা আসন বরাদ্দ করেছেন।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ২৯টি আসনে জয়ী হলেও, চলতি বছরের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর দলীয় ভাঙনের জেরে বড় ধাক্কা খায়। এর মধ্যে একজন সাংসদের মৃত্যু হওয়ায় একটি আসনও বর্তমানে শূন্য রয়েছে।
দলত্যাগী ২০ জন সাংসদের নেতৃত্বে থাকা গোষ্ঠী নতুন দল গঠনের পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনে স্বীকৃত এনসিপিআইয়ের সঙ্গে একীভূত হওয়ার পথ বেছে নেয়। ফলে নির্বাচন প্রতীক বা দলীয় সংবিধান নিয়ে দীর্ঘ আইনি জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। যদিও এনসিপিআই আগে কখনও লোকসভা নির্বাচনে প্রতিনিধিত্ব করেনি, এই একীভূতকরণের ফলে দলটি রাতারাতি লোকসভার অন্যতম বড় রাজনৈতিক গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে উঠে এসেছে।
সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী, কোনও আইনপ্রণেতা স্বেচ্ছায় দলত্যাগ করলে তাঁর সদস্যপদ খারিজ হতে পারে। তবে একই তফসিলের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যদি কোনও আইনসভার দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে সেই ক্ষেত্রে দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় অযোগ্য ঘোষণা করা যাবে না।
এই বিধান অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা দলের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সাংসদ এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়ায় তাঁদের সদস্যপদ আপাতত সুরক্ষিত রয়েছে। যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূল নেতৃত্ব দলত্যাগীদের বিরুদ্ধে স্পিকারের কাছে অযোগ্য ঘোষণার আবেদন জানিয়েছে, সংসদীয় দলকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং আসন বিন্যাসের চূড়ান্ত ক্ষমতা স্পিকারের হাতেই রয়েছে।
এই নতুন সংখ্যার সমীকরণে লোকসভায় এনডিএ-র অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। পাশাপাশি, সংসদের নিম্নকক্ষে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক প্রভাবও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
______



















