ব্রাসেলস, ১৮ জুলাই (আইএএনএস): আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ভারত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মানব পাচার, অবৈধ অভিবাসন, মাদক ও অস্ত্র পাচার, জাল নথি এবং মাদক-সন্ত্রাস যোগকে ভারত দীর্ঘদিন ধরেই বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে নয়, বরং পরস্পর-সম্পর্কিত নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১১ সালে ভারত জাতিসংঘের আন্তঃদেশীয় সংঘবদ্ধ অপরাধবিষয়ক কনভেনশন এবং এর তিনটি প্রোটোকল অনুমোদনের মাধ্যমে মানব পাচার, অভিবাসী পাচার এবং অবৈধ অস্ত্র উৎপাদন ও পাচার রোধে আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা গ্রহণ করে।
ইউরোপিয়ান টাইমস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৭ জুলাই মার্কিন বিচার বিভাগ ঘোষিত ‘অপারেশন হার্ড বল’ সীমান্ত অতিক্রমকারী সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে সমন্বিত আন্তর্জাতিক অভিযানের একটি বড় উদাহরণ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার, ৫০টিরও বেশি তল্লাশি অভিযান, তিনটি অভিযোগপত্র প্রকাশ এবং ৩৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন—সব মিলিয়ে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক অভিযান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মামলার গুরুত্ব ভারতের কাছে শুধু গ্রেপ্তারের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। তদন্তাধীন অপরাধচক্রগুলির মূল শিকড় ভারতে এবং প্রথমদিকে তাদের লক্ষ্যও ছিল ভারতীয় নাগরিকরা। ফলে ভারতের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এই নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়া সম্ভব নয়। এ কারণেই এই অভিযানের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভারত।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জেলে বন্দি পাঞ্জাবের গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই ও জগ্গু ভগবানপুরিয়া এবং কানাডাভিত্তিক রবিন্দর সিং ধান্ডার নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ভাড়াটে খুন, চাঁদাবাজি, অস্ত্র পাচার এবং বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের মতো অপরাধ পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভগবানপুরিয়া গোষ্ঠীর বিশ্বজুড়ে এক হাজারেরও বেশি সদস্য ও সহযোগী রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ এবং জেলে পাচার হওয়া মোবাইল ফোন ব্যবহার করে চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক পরিচালনা করত বলেও দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেস বা ভ্যাঙ্কুভারের মতো শহরে এই গোষ্ঠীগুলি আলোচনায় আসার অনেক আগেই ভারত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক আলোচিত হত্যাকাণ্ডেও এই চক্রগুলির নাম উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২২ সালের মে মাসে পাঞ্জাবের জনপ্রিয় গায়ক সিধু মুসেওয়ালার হত্যার দায় স্বীকার করেছিল লরেন্স বিষ্ণোই ও তার সহযোগী সতিন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রারের নেটওয়ার্ক। একই চক্রের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের অক্টোবরে মুম্বইয়ে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিক বাবা সিদ্দিকির হত্যাকাণ্ড এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ধারাবাহিকভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ফলে এই অপরাধচক্রগুলির কাঠামো, অর্থের উৎস, সদস্য এবং জেল থেকে পরিচালিত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ভারতের অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক তদন্তে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, কানাডার রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) এই তদন্তে ভারতের সহযোগিতার কথা স্বীকার করেছে। প্রসিকিউটরদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, স্পেন এবং ভারতের তদন্তকারী সংস্থাগুলি মামলার পরবর্তী পর্যায়েও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যাবে।
_______



















