মুম্বই, ১৮ জুলাই (আইএএনএস): আধ্যাত্মিকতার আড়ালে চাঁদাবাজি ও অর্থপাচারের অভিযোগে স্বঘোষিত ‘ধর্মগুরু’ অশোককুমার একনাথ খারাট ওরফে ক্যাপ্টেন ওরফে বন্ধু বাবা, তাঁর স্ত্রী-সহ মোট ছয় জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। শনিবার এক সরকারি বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইডির মুম্বই জোনাল অফিস জানিয়েছে, মুম্বইয়ের বিশেষ পিএমএলএ আদালতে অশোক খারাট, তাঁর স্ত্রী কল্পনা খারাট এবং আরও চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট ৩৬.৯০ কোটি টাকার সম্পত্তি সংযুক্ত, বাজেয়াপ্ত বা ফ্রিজ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ১৯ মে অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এর আওতায় অশোক খারাটকে গ্রেপ্তার করে ইডি। বর্তমানে তিনি বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
ইডি জানিয়েছে, গত ১৫ জুলাই অভিযুক্ত এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ১৯.২০ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে, ২০২৬ সালের এপ্রিল ও মে মাসে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্ত ও তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, লকার, যানবাহন এবং অন্যান্য সম্পদ থেকে ১৭.৭০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত বা ফ্রিজ করা হয়।
সরকারওয়াড়া, শিরডি, সিন্নর এবং রাহাতা থানায় দায়ের হওয়া একাধিক এফআইআরের ভিত্তিতে এই তদন্ত শুরু করে ইডি।
তদন্তে উঠে এসেছে, অশোক খারাট ভক্তদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ‘অবতার পূজা’, রোগ নিরাময়, অশুভ শক্তি দূর করা এবং ব্যবসায় উন্নতির আশ্বাস দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে অর্থ ও সম্পত্তি হাতিয়ে নিতেন। ইডির অভিযোগ, প্রতারণা, চাঁদাবাজি এবং ভয় দেখিয়ে তিনি বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ অর্জন করেছেন।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, খারাট নিজেকে অলৌকিক শক্তির অধিকারী এবং ভগবান শিবের অবতার বলে প্রচার করে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করতেন।
ইডির অভিযোগ, দুটি সমবায় ঋণ সমিতির মাধ্যমে এক কর্মচারীর যোগসাজশে একাধিক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা এবং বহু বেনামি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ জমা ও উত্তোলনের মাধ্যমে তিনি অর্থপাচার করতেন। পরে সেই অর্থ বিশ্বস্ত সহযোগীদের কাছে রাখা হতো অথবা নাসিক, আহমেদনগর, সোলাপুর, পুনে এবং মুম্বইয়ে পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তি কেনায় বিনিয়োগ করা হতো। (আইএএনএস)
























