কাঠমান্ডু, ১৮ জুলাই (আইএএনএস): আন্তর্জাতিক মূলধন বাজার থেকে প্রথমবারের মতো বিদেশি মুদ্রায় সরকারি ঋণ তোলার পথ খুলতে সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা আইন সংশোধনের খসড়া প্রস্তুত করেছে নেপাল সরকার।
খসড়া সংশোধনীতে বলা হয়েছে, পাবলিক ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিস নিলাম বা নির্ধারিত অন্য কোনও পদ্ধতির মাধ্যমে দেশীয় বা বিদেশি মুদ্রায় সরকারি সিকিউরিটি ইস্যু করতে পারবে। সেই সিকিউরিটি দেশি ও বিদেশি ব্যক্তি বা সংস্থা কিনতে পারবে।
নেপালের পাবলিক ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিসের এক শীর্ষ আধিকারিক আইএএনএস-কে জানান, এই সংশোধনের উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক মূলধন বাজার থেকে সরকারি ঋণ সংগ্রহের পথ খুলে দেওয়া। তাঁর কথায়, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এটি একটি প্রচলিত ব্যবস্থা এবং নেপালও সেই পথে এগোতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এখন পর্যন্ত নেপাল আন্তর্জাতিক বাজারে বন্ড বা বাজারভিত্তিক ঋণপত্র ইস্যু করে সরকারি ঋণ তোলেনি। দেশের বৈদেশিক ঋণের বড় অংশ এসেছে বিশ্বব্যাঙ্ক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক (এডিবি)-সহ বহুপাক্ষিক উন্নয়ন সংস্থা এবং বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ঋণদাতা দেশের কাছ থেকে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নেপালের বহুপাক্ষিক বৈদেশিক ঋণের ৯১ শতাংশেরও বেশি বিশ্বব্যাঙ্ক ও এডিবি-র কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মোট বৈদেশিক ঋণের ৯.১৬ শতাংশ এসেছে দ্বিপাক্ষিক ঋণদাতাদের কাছ থেকে।
বিশ্বব্যাঙ্ক ও এডিবি-র ঋণ সর্বোচ্চ ১.৫ শতাংশ সুদের মতো অত্যন্ত স্বল্প সুদে পাওয়া গেলেও, এই ধরনের ছাড়যুক্ত ঋণের পরিমাণ সীমিত। অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ঋণ তুলতে সরকারের সুদের খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
পাবলিক ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত নেপালের মোট সরকারি ঋণের ৪৬.৫১ শতাংশ ছিল অভ্যন্তরীণ ঋণ এবং ৫৩.৪৯ শতাংশ ছিল বৈদেশিক ঋণ।
যদিও মোট ঋণের হিসাবে অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ কিছুটা কম, তবুও বেশি সুদের হার এবং কম মেয়াদের কারণে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে সরকারের ব্যয় অনেক বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ৬৭.৪৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি বরাদ্দ করা হলেও, অভ্যন্তরীণ ঋণ পরিষেবায় বরাদ্দ করা হয়েছে ৩৪৩.৫৫ বিলিয়ন নেপালি রুপি।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত নেপালের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৪৫ শতাংশ।



















