জোধপুর, ১৭ জুলাই (আইএএনএস): সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের আগে বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি ও পর্যটনমন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত। তিনি অভিযোগ করেন, লোকসভা ও বিধানসভা আসনের পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) এবং মহিলা সংরক্ষণ আইন নিয়ে বিরোধীদের ‘দ্বিচারিতা’ আবারও দেশের সামনে প্রকাশ্যে আসবে।
শুক্রবার জোধপুরে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শেখাওয়াত বলেন, আগের সংসদ অধিবেশনেই বিরোধীদের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং আসন্ন অধিবেশনেও একই বিষয় নিয়ে তাদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লোকসভা ও বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে ভোটারের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েছে। তাই আসন পুনর্বিন্যাস একটি সাংবিধানিক প্রয়োজনীয়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর থেকেই সংবিধানে ডিলিমিটেশনের বিধান রাখা হয়েছে এবং ডিলিমিটেশন আইন অনুযায়ী ২০২৫ সালের পর নতুন করে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
শেখাওয়াত বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শুধু দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়াতেই নয়, বরং আইনসভাগুলিতে তাদের কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর মতে, নির্বাচিত সংস্থাগুলিতে মহিলাদের সংরক্ষণ কার্যকর করতে ডিলিমিটেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
মহিলা সংরক্ষণ আইন নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, আগের সংসদ অধিবেশনের আলোচনাতেই তাদের ‘নারীবিরোধী মানসিকতা’ প্রকাশ পেয়েছিল। শেখাওয়াত বলেন, বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হলে বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি সংসদের আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করবে এবং যারা এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন, তাদের জনগণের সামনে জবাব দিতে হবে।
দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে দিনটিকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে শেখাওয়াত বলেন, ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে দেশ দ্রুত পরিবর্তনের পথে এগিয়ে চলেছে। তিনি জানান, অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রায় ১,৫০০টি রেলস্টেশন আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে এবং এতে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
জয়সালমেরকে নিজের জন্মস্থান এবং কর্মক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে শেখাওয়াত বলেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত ও পর্যটন জেলা হিসেবে জয়সালমেরের পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করা তাঁর কাছে গর্বের বিষয়।
রাজস্থানের পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত এক দশকে দেশে সড়ক, রেল ও বিমান পরিষেবায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
তিনি জানান, দেশে দ্রুতগতিতে রেল বৈদ্যুতিকীকরণ চলছে। শীঘ্রই হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দেশে বিমানবন্দরের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। জোধপুরে আধুনিক বিমানবন্দর তৈরি হয়েছে এবং জোধপুর, ফলৌদি ও রামদেওরার রেলস্টেশনগুলির উন্নয়ন কাজ চলছে।
জোধপুর-জয়সালমের অঞ্চলে ১,০০০ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে রেল রক্ষণাবেক্ষণ, ওয়াশিং ও পরিচালন সংক্রান্ত পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে জোধপুরের জন্য ৪২টিরও বেশি নতুন ট্রেন পরিষেবা চালু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
রাজস্থানের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখাওয়াত বলেন, কেন্দ্র সরকার রাজ্যের উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাগুলিতে ধারাবাহিকভাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়ে আসছে।



















