নয়াদিল্লি, ১৭ জুলাই (আইএএনএস): দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হাইড্রোজেন ট্রেনের মেধাস্বত্ব (আইপি রাইটস) ভারতের কাছেই রয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি হরিয়ানায় দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল চালিত ট্রেনের উদ্বোধন করার পর আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বৈষ্ণব বলেন, ভারতে যেমন, তেমনই বিশ্বজুড়েও হাইড্রোজেন একটি উদীয়মান জ্বালানি। এই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে ভারতীয় রেল একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে।
রেলমন্ত্রী বলেন, “পরিবহণ ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য রেল সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ২,৪০০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন হাইড্রোজেন প্রপালশন সিস্টেম তৈরি করেছে, যা এই ট্রেনে ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রযুক্তি সম্পূর্ণভাবে দেশীয় এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর ভাবনার প্রতিফলন।”
তিনি এই প্রকল্পকে সবুজ শক্তির ক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। বৈষ্ণব বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গত ১২ বছরে রেলের আধুনিকীকরণের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তারই অংশ এই প্রকল্প।
তিনি বলেন, “আজ জিন্দ থেকে ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে হওয়া অত্যন্ত গর্বের বিষয়।”
দেশীয় উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরে রেলমন্ত্রী জানান, হাইড্রোজেন প্রপালশন প্রযুক্তির সম্পূর্ণ মেধাস্বত্ব ভারতের মালিকানাধীন। এর ফলে ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই প্রযুক্তি রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে।
হরিয়ানার জিন্দ থেকে সোনিপত পর্যন্ত প্রায় ৯০ কিলোমিটার রুটে চলবে ১০ কোচের এই হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল চালিত ট্রেন। পুরো পথ অতিক্রম করতে সময় লাগবে প্রায় দুই ঘণ্টা।
৩,২০০ হর্সপাওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন প্রপালশন সিস্টেমে চালিত এই ট্রেন চলার সময় নিজস্ব ব্যবস্থায় হাইড্রোজেন থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। এর নির্গমন হিসেবে শুধুমাত্র জলীয় বাষ্প বের হয়, ফলে এটি বিশ্বের অন্যতম পরিবেশবান্ধব রেল পরিবহণ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই প্রকল্পের মাধ্যমে হাইড্রোজেন চালিত রেল ব্যবস্থার ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। এটি দেশের সবুজ পরিবহণ ব্যবস্থার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
ভারতীয় রেলের পরিচ্ছন্ন শক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াতেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যেই দেশের ৯৯ শতাংশের বেশি ব্রডগেজ রেল নেটওয়ার্কের বৈদ্যুতিকীকরণ সম্পন্ন হয়েছে, যা ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সহায়তা করছে।
























