নয়াদিল্লি, ১৭ জুলাই (আইএএনএস): উত্তরপ্রদেশের বেরেলি জেলায় গোরু জবাইয়ের অভিযোগে দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে এক পলাতক অভিযুক্তকে জঙ্গলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের (এনকাউন্টার) পর আটক করা হয় বলে শুক্রবার জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
পুলিশের মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, ইজ্জতনগর থানায় দায়ের হওয়া একটি গোরু জবাই মামলায় মোহাম্মদ খানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, আকিলউদ্দিন ওরফে গাট্টুকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর আটক করা হয়। এই ঘটনায় আকিলউদ্দিনের পায়ে গুলি লাগে। একই সঙ্গে এক পুলিশ কনস্টেবলও আহত হন।
পুলিশের দাবি, অভিযুক্তদের কাছ থেকে প্রায় ৪০ কেজি গোমাংস, গোরু জবাইয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম, একটি ইলেকট্রনিক ওজন মাপার যন্ত্র এবং একটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) শিবম আশুতোষ জানান, ১৬ জুলাই ইজ্জতনগর থানার পুলিশ খবর পায় যে গ্রাম মহলাউন এলাকার বাসিন্দা আকিলউদ্দিনের বাড়িতে গোরু জবাই করা হয়েছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় আকিলউদ্দিনের বাড়ি থেকে নাবু খানের ছেলে মোহাম্মদ খানকে আটক করা হয় এবং তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ গোমাংস ও জবাইয়ের সরঞ্জাম উদ্ধার হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় অন্য কোনও ব্যক্তি জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উত্তরপ্রদেশে গোরু জবাই-সংক্রান্ত অভিযোগে পুলিশের কড়া অভিযানের মধ্যেই এই গ্রেফতারের ঘটনা ঘটল।
এর আগে, গত জুন মাসে শাহজাহানপুর জেলায় গোরু জবাইয়ের একাধিক মামলায় অভিযুক্ত এবং প্রত্যেকের মাথার ওপর ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষিত দুই দুষ্কৃতীকে পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়।
বিশেষ অভিযান দল (এসওজি), সার্ভেল্যান্স সেল এবং কান্ত থানার যৌথ অভিযানে ধৃতদের কাছ থেকে দেশি আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
শাহজাহানপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সিটি) দেবেন্দ্র কুমারের দাবি, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ জানতে পারে যে গ্যাংস্টার আইনে অভিযুক্ত দুই পলাতক ব্যক্তি মদনাপুর-কান্ত সড়কের জিন্দন ওয়ালি পুলিয়ার কাছে গোরু জবাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করে এবং দুই অভিযুক্ত পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় বলে অভিযোগ। পাল্টা গুলিতে মোহাম্মদ শাকিরের দুই পায়ে গুলি লাগে এবং তার সহযোগী ধর্মবীরকে ঘিরে ফেলে গ্রেফতার করা হয়। দু’জনেই বেরেলি জেলার বাসিন্দা।



















