চণ্ডীগড়, ১৬ জুলাই (আইএএনএস) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, পাঞ্জাবের মানুষ এখন আশার দৃষ্টিতে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) দিকে তাকিয়ে রয়েছে। ১৭ জুলাই জলন্ধরে নির্ধারিত জনসভার আগে বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এই বার্তা দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী লেখেন, আমাদের দলের উন্নয়নমূলক কর্মসূচি পাঞ্জাবের ভাই-বোনদের সমৃদ্ধি এবং ‘ইজ অব লিভিং’ নিশ্চিত করবে। উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের শুরুতে পাঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ১৭ জুলাই হরিয়ানা, চণ্ডীগড় এবং পাঞ্জাবে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে হরিয়ানার জিন্দে প্রায় ১৪,৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প রয়েছে।
এক্স-এ প্রধানমন্ত্রী লেখেন, রেল, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি, সংযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিতে হরিয়ানা, চণ্ডীগড় এবং পাঞ্জাবের মানুষের মধ্যে থাকতে মুখিয়ে আছি। বিশেষ করে যুব সমাজ এই প্রকল্পগুলির সুফল পাবে। জলন্ধরে ৫,৪০০ কোটিরও বেশি টাকার বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্প’-এর আওতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পুনর্নির্মিত ৭৫টি রেলস্টেশন জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হবে। তাঁর কথায়, “এই স্টেশনগুলি যাত্রীদের আরও উন্নত পরিষেবা দেবে এবং ‘বিকাশ ভি, বিরাসত ভি’-এর ভাবনাকে প্রতিফলিত করবে।”
এছাড়া শ্রী আনন্দপুর সাহিব ও মা চিন্তাপূর্ণী মন্দিরের সঙ্গে রেল সংযোগ আরও উন্নত হবে। অমৃতসর-বারাণসী ট্রেন পরিষেবা দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রকে যুক্ত করবে।
জলন্ধর সফরের আগে চণ্ডীগড় সফর নিয়েও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সেখানে ৪,৭০০ কোটিরও বেশি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস হবে। এর মধ্যে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (পিজিআইএমইআর)-এ আধুনিক মা ও শিশু কেন্দ্র এবং আধুনিক নিউরোসায়েন্সেস সেন্টারের উদ্বোধন উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি বিভিন্ন সড়ক প্রকল্পের মাধ্যমে পাঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ এবং জম্মু ও কাশ্মীরের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।
১৭ জুলাই সকাল ১১টায় হরিয়ানার জিন্দ রেলস্টেশন থেকে দেশের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। জিন্দ থেকে সোনিপত পর্যন্ত এই ট্রেন চলবে। এরপর সকাল সাড়ে ১১টায় জিন্দের একলব্য স্টেডিয়ামে ১৪,৭০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করে জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে হাইড্রোজেন ট্রেন চালু করা দেশগুলির নির্বাচিত গোষ্ঠীতে ভারত স্থান করে নেবে। রেল পরিবহণে পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তিনি আরও জানান, দিল্লি-অমৃতসর, আম্বালা-কলা আম্ব, জিন্দ-গোহানা-সহ বিভিন্ন রেল ও সড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন হবে। পাশাপাশি ভিওয়ানি ও নারনাউলে নতুন মেডিক্যাল কলেজ জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হবে।
এছাড়া কুরুক্ষেত্রে একটি শিখ জাদুঘরের শিলান্যাস করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই জাদুঘরে শিখ ধর্মের গৌরবময় ইতিহাস, শিখ গুরুদের মহান শিক্ষা এবং দেশের প্রতি শিখ সম্প্রদায়ের অবদান তুলে ধরা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে পাঞ্জাব বিজেপি দুই দিনের রাজ্যব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে। জলন্ধরের একটি পার্কে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে পাঞ্জাব বিজেপির সভাপতি কেওয়াল সিং ধিল্লোঁ বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে রাজ্য প্রস্তুত।
রাজ্যসভার সদস্য তরুণ চুঘ মোদি সরকারের পাঞ্জাব ও শিখ সম্প্রদায়ের জন্য নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শ্রী হরমন্দির সাহিব (স্বর্ণমন্দির)-এর জন্য এফসিআরএ নিবন্ধন সহজ করা, লঙ্গরের ওপর কর ছাড়, কর্তারপুর সাহিব করিডর চালু, গুরু নানক দেব, গুরু গোবিন্দ সিং এবং গুরু তেগ বাহাদুরের প্রকাশ পরব উদ্যাপন এসবই সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন, ‘বীর বাল দিবস’ ঘোষণার মাধ্যমে সাহিবজাদাদের প্রতি ঐতিহাসিক শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। পাশাপাশি জালিয়ানওয়ালা বাগ স্মৃতিসৌধের পুনর্নির্মাণ, আফগান শিখদের সহায়তা, পাকিস্তানে বসবাসকারী শিখদের পাশে থাকা, জম্মু ও কাশ্মীরে শিখদের অধিকার রক্ষা এবং শিখ যুবকদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ সরকারের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন।



















