কাঠমান্ডু, ১৬ জুলাই (আইএএনএস): নেপাল ও ভারতের মধ্যে ডিজিটাল পেমেন্ট করিডর বাণিজ্য, পর্যটন এবং রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও গতিশীল করার ক্ষেত্রে একটি বড় কিন্তু এখনও পুরোপুরি কাজে না-লাগানো সুযোগ বলে উল্লেখ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থার মতে, দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত-পার ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা গেলে ব্যবসা ও সাধারণ গ্রাহক উভয়েরই সময় ও খরচ সাশ্রয় হবে।
এডিবির সম্প্রতি প্রকাশিত ‘অ্যাডভান্সিং ডিজিটাল পেমেন্টস ইন নেপাল: ইনফ্রাস্ট্রাকচার আপগ্রেডস অ্যান্ড পলিসি ডেভেলপমেন্ট ফর এনহ্যান্সড ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবছর নেপাল ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স খাতে কয়েকশো কোটি ডলারের লেনদেন হলেও, এখনও অধিকাংশ অর্থ লেনদেন প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়।
প্রতিবেদনে নেপালের ফিনটেক বিশেষজ্ঞ সঞ্জিব সুব্বার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ভারত-নেপাল অর্থনৈতিক সম্পর্ক ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে বিরাট সম্ভাবনা তৈরি করেছে। দুই দেশের পেমেন্ট অবকাঠামোকে আন্তঃসংযুক্ত (ইন্টারঅপারেবল) করা গেলে ব্যবসা ও ভোক্তা—উভয়ই উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবে।
এডিবি সীমান্ত-পার পেমেন্ট অবকাঠামো উন্নয়ন, নিয়ন্ত্রক নীতির সমন্বয়, পেমেন্ট সিস্টেমের আন্তঃকার্যক্ষমতা এবং বাজার সংহতি জোরদারের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি নেপালের অভ্যন্তরীণ ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত বাস্তবায়ন কাঠামো গড়ে তোলার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালে নেপাল রাষ্ট্র ব্যাংক এবং ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক নেপালের ন্যাশনাল পেমেন্টস ইন্টারফেসকে ভারতের ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস (ইউপিআই)-এর সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য নিয়ন্ত্রক কাঠামোতে সম্মত হয়। এর পর ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ভারতীয় পর্যটকরা নেপালের ফোনপে ও খলতি-সহ বিভিন্ন কিউআর কোডের মাধ্যমে নিজেদের ডিজিটাল পেমেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন।
এডিবির তথ্য অনুযায়ী, পরিষেবা চালুর সময় প্রতিদিন প্রায় ৫০০টি লেনদেন হলেও ২০২৫ সালের শুরুতে তা বেড়ে প্রতিদিন প্রায় ২,০০০-এ পৌঁছেছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৬০ লক্ষ নেপালি রুপির লেনদেন হচ্ছে এবং পরিষেবা চালুর পর থেকে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬০ কোটি নেপালি রুপি।
এদিকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে নেপালপে কিউআর ব্যবস্থার মাধ্যমে চীন, ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের পর্যটকরাও নেপালে ডিজিটাল পেমেন্টের সুবিধা পাচ্ছেন। তবে এখনও নেপালি নাগরিকরা ভারতে একইভাবে কিউআর কোড ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিলম্বের মূল কারণ দুই দেশের কমিশন কাঠামোর পার্থক্য। ভারতে কিউআর কোডের মাধ্যমে পেমেন্টে সাধারণত কোনও চার্জ নেওয়া হয় না, অন্যদিকে নেপালে ভারতীয় গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রতি লেনদেনে ১.৯৫ শতাংশ হারে চার্জ প্রযোজ্য। ফলে নেপালি গ্রাহকরা ভারতে অর্থ পরিশোধ করলে সেই পরিষেবা ফি কে বহন করবে, তা নিয়ে এখনও ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি।
এডিবি মনে করছে, কমিশন সংক্রান্ত এই অমীমাংসিত সমস্যা দ্রুত সমাধান করা গেলে নেপালি নাগরিকদের জন্য ভারতে কিউআর-ভিত্তিক পেমেন্ট পরিষেবাও চালু করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে সীমান্ত-পার লেনদেন আরও সহজ করতে ইউপিআই-এর মতো একটি সমন্বিত ডিজিটাল পেমেন্ট কাঠামো গ্রহণেরও সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।
প্রসঙ্গত, কিউআর পেমেন্ট চালুতে বিলম্বের মধ্যেই চলতি বছরের জুনের শুরুতে ভারত ও নেপাল সীমান্ত-পার অনলাইন তহবিল স্থানান্তর পরিষেবা চালু করেছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালের ভারত সফরের সময় তিনি এবং ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর যৌথভাবে এই পরিষেবার উদ্বোধন করেন, যার মাধ্যমে দুই দেশে কর্মরত নাগরিকরা সরাসরি এক দেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য দেশের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠাতে পারবেন।



















