নয়াদিল্লি, ১৫ জুলাই (আইএএনএস): নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার পুনঃপরীক্ষার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল) বুধবার খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, পুনঃপরীক্ষা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যাওয়ায় এই মামলার আর কোনও বাস্তব প্রাসঙ্গিকতা নেই।
বিচারপতি পি. এস. নরসিমহা এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ আবেদনকারীর আইনজীবীকে জানায়, পুনঃপরীক্ষা হয়ে যাওয়ায় মামলাটি কার্যত নিষ্প্রয়োজন (ইনফ্রাকচুয়াস) হয়ে পড়েছে।
শুনানির সময় আবেদনকারীর আইনজীবী জানান, মামলায় শুধু পুনঃপরীক্ষা নয়, জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ)-র কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের দাবিও তোলা হয়েছে। তিনি এই মামলাটিকে একই বিষয়ে বিচারাধীন অন্য মামলাগুলির সঙ্গে যুক্ত করার আবেদন জানান।
এর জবাবে বিচারপতি নরসিমহার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মৌখিকভাবে জানায়, এনটিএ-র সংস্কার সংক্রান্ত বিচারাধীন মামলাগুলিতে আবেদনকারী চাইলে হস্তক্ষেপকারী (ইন্টারভেনর) হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
প্রাক্তন সহকারী স্বাস্থ্য পরিষেবা মহাপরিচালক (এডিজিএইচএস) ডা. মঙ্গলা কোহলি আইনজীবী অভিষেক চন্দ্র মিশ্রের মাধ্যমে এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা বাতিল করে দেশজুড়ে পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এনটিএ।
আবেদনে বলা হয়, পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থার প্রশাসনিক ব্যর্থতার জন্য লক্ষ লক্ষ সৎ পরীক্ষার্থীর সাংবিধানিক অধিকার ও ন্যায্য স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা উচিত নয়।
এতে আরও দাবি করা হয়, কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরোর (সিবিআই) তদন্তে গোটা পরীক্ষা ব্যবস্থা নয়, বরং কিছু নির্দিষ্ট চক্রের মাধ্যমে সীমিত এলাকায় অনিয়মের ইঙ্গিত মিলেছে।
আবেদনকারীর বক্তব্য ছিল, পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীকে, যাঁদের অধিকাংশেরই অনিয়মের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক ছিল না, আবার পরীক্ষায় বসতে হয়েছে। এতে তাঁদের মানসিক, শিক্ষাগত ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এবং মেডিক্যাল ভর্তি প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয়েছে।
পুনঃপরীক্ষার সিদ্ধান্ত বাতিলের পাশাপাশি আবেদনে জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিতে স্বাধীন নজরদারি ব্যবস্থা, উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং এনক্রিপ্টেড ডিজিটাল প্রশ্নপত্র, বায়োমেট্রিক যাচাই ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-নির্ভর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর মতো প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত সংস্কারের দাবিও জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এই মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন নাকচ করে জানিয়েছিলেন, নিট-ইউজি ২০২৬ সংক্রান্ত বিষয়গুলি ইতিমধ্যেই বিচারপতি পি. এস. নরসিমহার বেঞ্চে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে।
এদিকে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে মূল পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর ২১ জুন এনটিএ সফলভাবে নিট-ইউজি ২০২৬-এর পুনঃপরীক্ষা আয়োজন করে। দেশ-বিদেশ মিলিয়ে ২০ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী ৫,৪৪০টি পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক যাচাই, মুখের পরিচয় শনাক্তকরণ, দ্বিস্তরীয় তল্লাশি, সিসিটিভি নজরদারি, সিগন্যাল জ্যামার এবং কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।



















