কলকাতা, ১৫ জুলাই (আইএএনএস): ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবস উপলক্ষে এসপ্ল্যানেডের সিইএসসি হাউসের সামনে ঐতিহ্যবাহী স্থানে সমাবেশ করার আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস শিবিরকে বিকল্প হিসেবে মধ্য কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সভা করার অনুমতি দিয়েছে আদালত।
বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। প্রথম দফার শুনানির পর আদালত এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান জানাতে বলে। পরে রাজ্য সরকার বিকল্প ভেন্যুর প্রস্তাব দিলে দ্বিতীয় দফায় শুনানি শুরু হয়।
শুনানি শেষে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ ২১ জুলাই বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়। তবে এর সঙ্গে একাধিক শর্তও আরোপ করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সমাবেশে সর্বাধিক ২,৫০০ জন অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এছাড়া বিড়লা তারামণ্ডলের সামনের দুটি লেনের মধ্যে একটি লেনেই সমাবেশ সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। অন্য লেনটি যান চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ খোলা রাখতে হবে।
আদালত সমাবেশের সময়ও নির্ধারণ করে দিয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, সভা দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলবে।
শুনানিতে রাজ্য সরকারের আইনজীবী যুক্তি দেন, বিড়লা তারামণ্ডলের আশপাশে একাধিক স্কুল ও হাসপাতাল থাকায় সমাবেশে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৫০০-তে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।
অন্যদিকে, আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী তথা চারবারের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, সমাবেশের অনুমতি না দিতে রাজ্য সরকার নানা অজুহাত তুলে ধরছে। তিনি সমাবেশে সর্বোচ্চ ৫,০০০ জন অংশগ্রহণের অনুমতি চেয়েছিলেন।
এর জবাবে রাজ্য সরকার জানায়, ৩,০০০ জনের সমাবেশ হলেও সাধারণ মানুষের অসুবিধা হবে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণকারীর সর্বোচ্চ সংখ্যা ২,৫০০ নির্ধারণ করে।
একই সঙ্গে কলকাতা পুলিশকে সমাবেশ চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
এদিকে, দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরও ২১ জুলাই একই উপলক্ষে মধ্য কলকাতার জওহরলাল নেহরু রোডে পৃথক সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিল। কলকাতা পুলিশ ইতিমধ্যেই সেই সমাবেশেরও অনুমতি দিয়েছে।



















