নয়াদিল্লি, ১৫ জুলাই (আইএএনএস): কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বিষয়ক কমিশনার মারোশ শেফচোভিচের সঙ্গে বৈঠক করে ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ)-র বাস্তবায়ন সংক্রান্ত অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং স্থিতিশীল সরবরাহ শৃঙ্খল (রেজিলিয়েন্ট সাপ্লাই চেইন) ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
এক্স-এ (প্রাক্তন টুইটার) এক পোস্টে পীযূষ গোয়েল জানান, দুই পক্ষই ভারত-ইইউ অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে ইতিবাচক মতবিনিময় করেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে ক্যামেরুনে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ১৪তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনের (এমসি-১৪) ফাঁকে গোয়েল ও শেফচোভিচের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকেও ভারত-ইইউ এফটিএ নিয়ে চলমান আলোচনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
এই চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লেয়েন যৌথভাবে ঘোষণা করেছিলেন। সেই ঘোষণার পর থেকে চলমান কাজের অগ্রগতি নিয়েও দুই নেতা পর্যালোচনা করেছেন।
ব্রাসেলসে অবস্থানকালে গোয়েল ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিষয়ক কমিটির (আইএনটিএ) চেয়ারম্যান বের্ন্ড ল্যাঙ্গের সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে ভারত-ইইউ এফটিএ ব্যবসা, শিল্প এবং দুই অঞ্চলের মানুষের জন্য যে বিপুল সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি ভারত সফরের আমন্ত্রণও জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
এছাড়া বেলজিয়ামের উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা কর্মসংস্থান, অর্থনীতি ও কৃষিমন্ত্রী ডেভিড ক্লারিনভালের সঙ্গেও বৈঠক করেন গোয়েল। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, লজিস্টিকস এবং দক্ষ কর্মী চলাচলের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। ভারত-ইইউ এফটিএ দুই পক্ষের ব্যবসা ও জনগণের পারস্পরিক স্বার্থে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে বলেও বৈঠকে মত প্রকাশ করা হয়।
এদিন গোয়েল ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু, নেট-জিরো ও ক্লিন গ্রোথ বিষয়ক কমিশনার ওয়োপকে হুকস্ট্রার সঙ্গেও বৈঠক করেন। বৈঠকে পরিচ্ছন্ন প্রবৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং টেকসই শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারত-ইইউ সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ হাইড্রোজেন, পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং স্থিতিশীল মূল্য শৃঙ্খল গড়ে তোলার মাধ্যমে উভয় পক্ষের নেট-জিরো লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।



















