বিলোনিয়া, ১৩ জুলাই: দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়ায় মুহুরী নদীর নবনির্মিত বাঁধ এবং তার উপর নির্মিত ইটের সলিং রাস্তা সোমবার পরিদর্শন করলেন দক্ষিণ জেলার জেলাশাসক মোহম্মদ সাজ্জাদ পি। এদিন সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ বিলোনিয়া পুর পরিষদের অধীন বরজ কলোনির রতনমনি সেতু থেকে মহাশ্মশান ঘাট, বনকর হয়ে মহকুমা শাসকের কার্যালয় পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি।
গত বছরের ভয়াবহ বন্যার অভিজ্ঞতার পর প্রশাসনের লক্ষ্য, আগামী বর্ষায় জলমগ্নপ্রবণ এলাকাগুলিকে আগেভাগেই সুরক্ষিত করা। সেই উদ্দেশ্যেই বিলোনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হয়।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জেলাশাসক জানান, প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধ প্রকল্পের ৮০ শতাংশ কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বাকি অংশের কাজ উৎসবের মরশুমের আগেই শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, কিছু জায়গায় বাঁধের অংশবিশেষে নিচু হয়ে যাওয়ার বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা প্রশাসনের নজরে রয়েছে। বর্ষার আগে দ্রুত কাজ শেষ করার তাগিদে মাটি বসে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জলসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্ষার পর স্থায়ীভাবে মেরামতির কাজ করা হবে। এর মধ্যে দুর্বল অংশগুলিতে দ্বিস্তরীয় ইটের সোলিংসহ প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলিতে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
বাঁধ নির্মাণের কারণে যেসব এলাকায় রাস্তা যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেগুলির উন্নয়নের জন্যও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ভবিষ্যতে বাঁধকে আরও শক্তিশালী করতে সরকারি প্রকল্পের আওতায় বাঁধের পাশে বাঁশ গাছ লাগানোর উদ্যোগও নেওয়া হবে।
জেলাশাসক মহঃ সাজ্জাদ পি মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রয়েছে। ২০২৪ সালের মতো ভয়াবহ বন্যার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসন সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। তিনি এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, প্রকল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্ত সমস্যার সমাধান করা হবে।
























