কৈলাসহর, ১২ জুলাই : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ত্রিপুরার ঊনকোটি জেলার কৈলাসহরের আন্তর্জাতিক জিরো পয়েন্ট এলাকায় মনু নদীর ভাঙন রোধে বাঁধ সংস্কারের কাজ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সম্ভাব্য বন্যা থেকে প্রায় ১২টি গ্রামকে রক্ষা করতে জরুরি ভিত্তিতে শুরু হওয়া সংস্কারকাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রবিবার টিলাবাজার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ঠিকাদাররা পথ অবরোধ করে বিক্ষোভে সামিল হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে ঊনকোটি জেলা-সহ ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকা বন্যাকবলিত হয়। বর্তমানে বৃষ্টিপাত কমে মনু নদীর জলস্তর কিছুটা নামলেও জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন লাঠিয়াপুরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ৩০০ মিটার বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ওই এলাকার কাছেই একটি বিএসএফ ক্যাম্প রয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে জেলা প্রশাসন ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তর দ্রুত বাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
ঠিকাদার আব্দুল মান্নানের অভিযোগ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের নির্দেশে শুক্রবার থেকে মাটি ফেলে বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু হয়। কিন্তু রাতে কয়েকজন ব্যক্তি কাজে বাধা দিয়ে মাটি বোঝাই গাড়ি ফিরিয়ে দেন। পরদিন প্রশাসনের নির্দেশে ১৯টি বোল্ডার বোঝাই গাড়ি পাঠানো হলেও সেগুলিকেও দীর্ঘক্ষণ আটকে রেখে শেষ পর্যন্ত ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
আব্দুল মান্নানের অভিযোগ, পুরো ঘটনাটি পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতেই ঘটেছে এবং এর পেছনে সরকারি আইনজীবী সন্দীপ দেব রায়ের ভূমিকা রয়েছে। তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কাজ করার প্রয়োজন থাকলেও সেখানে সরকারি আইনজীবীর উপস্থিতি ও সংবাদ সম্মেলন ভবিষ্যতে সীমান্ত-সংক্রান্ত জটিলতার সৃষ্টি করতে পারে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, দ্রুত বাঁধ সংস্কারের কাজ সম্পন্ন না হলে কৈলাসহরের অন্তত ১২টি গ্রাম পুনরায় বন্যার কবলে পড়তে পারে।
এই অভিযোগের প্রতিবাদে রবিবার টিলাবাজার এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ঠিকাদাররা পথ অবরোধ করে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, অবিলম্বে বাঁধ সংস্কারের কাজ পুনরায় শুরু করতে হবে এবং কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সীমান্তবর্তী এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বাঁধ সংস্কারের কাজ কবে শুরু হবে, তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা কৈলাসহর।
।।।।।।।
























