কৈলাসহর, ১১ জুলাই: মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কৈলাসহর মহকুমায় ফের বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্তের জিরো পয়েন্টে লাটিয়াপুড়া গ্রামের কাছে মনু নদীর পাড়ের বাঁধে ভাঙন শুরু হওয়ায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের প্রবল বৃষ্টিতে মনু নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। শনিবার ভোরের পর নদীর জলস্তর কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও সীমান্তবর্তী এলাকায় মনু নদীর পাড়ের বাঁধ দুর্বল হয়ে ভাঙতে শুরু করে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই কৈলাসহর মহকুমাজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
পরিস্থিতির খবর পেয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছান ঊনকোটি জেলার জেলাশাসক মেঘা জৈন, দুই অতিরিক্ত জেলাশাসক, কৈলাসহরের মহকুমাশাসক, তিনজন ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট, ঊনকোটি জেলার গভর্নমেন্ট প্লিডার সন্দীপ দেবরায়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার, অতিরিক্ত মহকুমাশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা।
বিএসএফের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে বাঁধের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করা হয়। এরপর প্রশাসনিক আধিকারিকরা সীমান্তবর্তী এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। সঙ্গে সঙ্গেই বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ শক্তিশালী করার জন্য মাটি ফেলার কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে কাজ শুরু করতে গিয়েও নতুন সমস্যার মুখে পড়তে হয় প্রশাসনকে। বাঁধের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মাটি নিয়ে যাওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া কেটে রাস্তা তৈরি করার প্রয়োজন হয়। দিল্লির অনুমতি ছাড়া সীমান্তের বেড়া কাটার অনুমতি না থাকায় বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে জানানো হয়। পরে অনুমতি পাওয়ার পর কাঁটাতার কেটে মাটি ফেলার কাজ শুরু করা হয়।
সূত্রের খবর, প্রথমদিকে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হলেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করা হয়। বর্তমানে জোরকদমে বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।
প্রশাসনের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রায় ৩০০ মিটার এলাকাজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের কারণে কৈলাসহর মহকুমার বিস্তীর্ণ অংশ জলমগ্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই রাতভর জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ শক্তিশালী করার কাজ চালানো হচ্ছে।
ঊনকোটি জেলা আদালতের গভর্নমেন্ট প্লিডার সন্দীপ দেবরায় জানান, লাটিয়াপুড়া এলাকায় মনু নদীর পাড়ের বাঁধের পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুতগতিতে মাটি ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে।
এদিকে, একদিন আগেই অর্থাৎ ১০ জুলাই শুক্রবার ঊনকোটি জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহাম্মদ বদরুজ্জামান লাটিয়াপুড়া এলাকার এই বাঁধের দুরবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, বাঁধ সংস্কারের জন্য স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে একাধিকবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ দপ্তরকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মত, এক বছর আগেই যদি বাঁধ সংস্কারের কাজ করা হতো, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হতো না। বর্তমানে সকলের নজর প্রশাসনের মেরামত কার্যক্রম এবং মনু নদীর পরিস্থিতির দিকে।



















