বিশালগড়, ৯ জুলাই: দক্ষিণ চরিলাম ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকটকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিকের মন্তব্যকে ঘিরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন অভিভাবকরা। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষক নিয়োগে প্রশাসনের ব্যর্থতার বোঝা অভিভাবকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান হয় দক্ষিণ চরিলাম ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়ে। অথচ স্কুলটিতে বর্তমানে প্রধান শিক্ষক-সহ অনুমোদিত শিক্ষক রয়েছেন মাত্র চারজন। এর মধ্যে একজন অসুস্থ থাকায় ছুটিতে রয়েছেন এবং আরও দু’জন জনগণনা সংক্রান্ত সরকারি দায়িত্বে নিযুক্ত থাকায় কার্যত পুরো বিদ্যালয়ের দায়িত্ব একাই সামলাচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা ভাগ্যশ্রী দেববর্মা।
এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় পরিদর্শনে আসেন ডেপুটি ইন্সপেক্টর অব স্কুলস তনিমা রায়। অভিযোগ, পরিদর্শনের সময় অভিভাবকরা জানান, বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে। ফলে ছাত্রছাত্রীদের কিছুটা দেরি স্কুলে আনতে বলেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক, যাতে করে তিনি একসঙ্গে সবাইকে একাই পঠন পাঠন দান করতে পারেন। সেই অনুযায়ী অভিভাবকরাও কিছুটা দেরিতে ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন। কিন্তু তাতেই রেগে চটে যান ওই ডেপুটি স্কুল ইনস্পেক্টর। বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট দুর করার বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই তিনি উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষক সংকট থাকলেও, ক্লাস না হলেও ছাত্রছাত্রীদের যথা সময়ে বিদ্যালয়ে পাঠাতে হবে, তা না হলে তাঁরা যেন সন্তানদের স্কুলে না পাঠান।
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা। তাঁদের প্রশ্ন, “কোন নির্দেশের ভিত্তিতে একজন সরকারি আধিকারিক বলতে পারেন যে বাচ্চাদের স্কুলে না পাঠাতে?” অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষক নিয়োগ ও পর্যাপ্ত পরিকাঠামো নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। প্রশাসনের ব্যর্থতার জন্য শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ রাখার পরামর্শ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধান না করেই অভিভাবকদের উপর চড়াও হচ্ছেন। বিদ্যালয় যদি যথা সময়ে না খোলা হয় তবে ছাত্র ছাত্রীদের বিদ্যালয়ে যথা সময়ে উপস্থিত করিয়ে কি করবেন অভিভাবকরা।
অভিভাবকদের আরও অভিযোগ, রাজ্য সরকার ইংরেজি মাধ্যম সরকারি বিদ্যালয়ে মানসম্মত শিক্ষার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে শিক্ষক সংকটের কারণে সেই লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না। নিয়মিত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তার ওপর দায়িত্বশীল আধিকারিকের এমন মন্তব্য তাঁদের উদ্বেগ ও ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও সামনে উঠে এসেছে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা শিক্ষক সংকটের বিষয়টি। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুত শূন্যপদ পূরণ এবং পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের দাবি তুলেছেন অভিভাবকরা।























